
ভারত ও পাকিস্তানে গরম যখন মৃত্যুসম
এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩ জানুয়ারি বলেছেন, ভেনেজুয়েলার যে বিপুল তেল সম্পদ রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র তার নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং দেশটির তেলশিল্প পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করা হবে। এরই মধ্যে মার্কিন কোম্পানিও যুক্ত করেছেন তিনি।
অনেক সমালোচক বলছেন, মাদুরো নয়–ট্রাম্পের চোখ আসলে ভেনেজুয়েলার ওই তেলের খনির দিকে। মার্কিন ‘এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (ইআইএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়েলার মাটির নিচে রয়েছে প্রায় ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল—যা বিশ্বের মোট মজুতের প্রায় ৫ ভাগের এক ভাগ। এই বিশাল তেল-ভাণ্ডারই যে দেশটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে, তাতে কারও সন্দেহ নেই।
২০২৩ সালের তথ্যমতে, অপরিশোধিত তেলের মজুতের দিক থেকে ভেনেজুয়েলা সৌদি আরবকে ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে ভেনেজুয়েলার রয়েছে ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল তেল, সৌদি আরবের আছে ২৬৭ বিলিয়ন ব্যারেল। তৃতীয় অবস্থানে আছে ইরান, তার তেলের পরিমাণ ২০৯ বিলিয়ন ব্যারেল। তারপর যথাক্রমে ইরাকের ১৪৫ বিলিয়ন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ১১৩, কুয়েতের ১০২, রাশিয়ার ৮০, লিবিয়ার ৪৮, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৮, নাইজেরিয়ার ৩৮, কাজাখস্তানের ৩০ এবং ২৮ বিলিয়ন ব্যারেল তেল নিয়ে চীন রয়েছে দশম অবস্থানে।
তবে ভেনেজুয়েলার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তেল মজুত থাকলেও, উৎপাদন অনেক কম। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, দেশটি বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে—যা সারা বিশ্বে অপরিশোধিত তেল উৎপাদনের মাত্র ০.৮%।
২০১৩ সালে মাদুরো ক্ষমতায় আসার আগে উৎপাদন বর্তমান উৎপাদনের দ্বিগুণেরও বেশি ছিল। দেশটি সমাজতান্ত্রিক হওয়ার আগে দৈনিক উৎপাদন ছিল ৩৫ লাখ ব্যারেল। এখন উৎপাদন সে তুলনায় এক-তৃতীয়াংশেরও কম। ২০১৩ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে তেল উৎপাদন ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমে যায়। এরপর ধীরে ধীরে উৎপাদন কিছুটা বেড়েছে।
২০২০ সালে দৈনিক গড় উৎপাদন ছিল ৫৬৯ মিলিয়ন ব্যারেল। ২০২১-এ ৬৩৬ মিলিয়ন, ২০২২-এ ৭১৬ মিলিয়ন, ২০২৩-এ ৭৮৩ মিলিয়ন এবং ২০২৪ সাল ৯২১ মিলিয়ন ব্যারেল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, তেলের বিশাল মজুত থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক অস্থিরতা, নিষেধাজ্ঞা এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দেশটিতে তেলের উৎপাদন বর্তমানে অনেক কম। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে উৎপাদন দৈনিক প্রায় ১ মিলিয়ন ব্যারেলে নেমে এসেছে, যা একসময় ৩.৫ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত ছিল।
এই তেলের বেশিরভাগই দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ওরিনোকো বেল্টে সঞ্চিত আছে। ভেনেজুয়েলার তেলের একটি বড় অংশ হলো ‘এক্সট্রা হেভি ক্রুড’ বা অতি ঘন অপরিশোধিত তেল। এই তেল মাটির নিচ থেকে তোলা এবং পরিশোধন করা সাধারণ তেলের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল ও জটিল।
ভেনেজুয়েলার তেল কারা কেনে?
দেশটি অপরিশোধিত তেল সবচেয়ে বেশি রপ্তানি করে চীনে, মোট তেলের ৬৮ শতাংশ। ২৩ শতাংশ তেল কেনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখনো দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল ক্রেতা। স্পেন ও কিউবা কেনে ৪%, সিঙ্গাপুর ০.৫%, মালয়েশিয়া ০.৩% আর রাশিয়া কেনে মাত্র ০.২% শতাংশ তেল।
এখন একটি বড় প্রশ্ন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে জ্বালানি তেলের দামে কী প্রভাব পড়বে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—তা স্পষ্ট নয়। ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান র্যাপিডান এনার্জি গ্রুপ-এর প্রেসিডেন্ট বব ম্যাকন্যালি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনকে বলেছেন, যতক্ষণ না ব্যাপক সামাজিক অস্থিরতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠছে—ততক্ষণ এই ঘটনা তেলের দামের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে।

বিশ্বকাপ জেতা দল শিরোপা ধরে রাখতে পারে না ৬৪ বছর ধরে। এবার আর্জেন্টিনা সব শঙ্কা পেছনে ফেলে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্ন সময়ের হাতেই!

একসময় কোরবানির ঈদের দিন বিকেলের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, হাট-বাজার ও মহল্লায় কাঁচা চামড়ার নগদ বেচাকেনা শেষ হয়ে যেত। মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানতেন—চামড়া হাতে মানেই নগদ টাকা। দাম নিয়ে কিছু দর-কষাকষি থাকলেও বাজারে ক্রেতা থাকত, নগদ অর্থ থাকত, এবং দ্রুত চামড়া সংগ্রহ করে আড়

প্রধানত শিয়া মুসলমানরা ‘ঈদুল গাদির’ পালন করে। তাদের কাছে অন্য দুই ঈদের চেয়েও এই ঈদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার পরই এই দিনটির অবস্থান। ঈদুল আজহা তো পালিত হয় জিলহজ মাসের দশম দিনে, ঈদুল গাদির পালিত হয় একই মাসে, ১৮তম দিনে। ঈদুল গাদিরে অবশ্য পশু কোরবানি দেওয়া হয় না। মূলত বিশেষ নামাজ আদায় ও রোজা রাখা হয়।