চরচা প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা কে হতে যাচ্ছেন? গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশন রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর মুলতবি হয়ে গেছে। দুই দিন বিরতি দিয়ে আগামী রোববার আবার বসবে অধিবেশন। তবে প্রথম অধিবেশনের আগে সংসদের উপনেতা হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
জাতীয় সংসদের উপনেতা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। নবম, দশম ও একাদশ সংসদে উপনেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে উপনেতা ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক নেত্রী মতিয়া চৌধুরী।
উপনেতার আসন সাধারণত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পাশেই হয়ে থাকে। ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে কি তিনিই সংসদ উপনেতা হতে যাচ্ছেন?
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ উপনেতা হয়েছিলেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি শুরুতে মন্ত্রিসভায় ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। পরে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে উপনেতার পদটি শূন্য হয়ে যায়। বিএনপি এরপর পুরো সময়ে উপনেতা হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সে সময় যথেষ্ট আলোচনা–সমালোচনা ছিল। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদেও উপনেতা ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে সেবার সংসদে সংসদ নেতা খালেদা জিয়ার পাশের আসনটি বরাদ্দ ছিল সাবেক স্পিকার ও বিএনপির সে সময়ের প্রবীণ নেতা মির্জা গোলাম হাফিজের জন্য।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বসতেন তৃতীয় আসনটিতে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, পরে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রী মর্যাদায় সংসদ উপনেতা হিসেবেই ১৯৯৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয় দেশে। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে উপনেতা হয়েছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি ছিলেন সহকারী প্রধানমন্ত্রী। বদরুদ্দোজা চৌধুরী সিনিয়র সহকারী প্রধানমন্ত্রী। সেবার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটি পদ ছিল। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবর্তনের পর সেই পদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ গঠিত হয়। তৃতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
চতুর্থ সংসদে উপনেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সংসদে উপনেতা করা হয় সে সময়ের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানকে। তিনি ২০০১ পর্যন্ত উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সরকারে জিল্লুর রহমান ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্বে।
২০০৮ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতাসীন হয়, সংসদে আবারও উপনেতা হন জিল্লুর রহমান। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে উপনেতার দায়িত্ব পালন শুরু করেন সাজেদা চৌধুরী। সাজেদা চৌধুরী ২০২২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদের উপনেতা ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদে উপনেতা কী মির্জা ফখরুলই হতে যাচ্ছেন? ইঙ্গিত সেটাই দিচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা তারেক রহমানই। সেই সিদ্ধান্তটা কবে আসবে, এখন দেখার বিষয় সেটিই।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উপনেতা কে হতে যাচ্ছেন? গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম অধিবেশন রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর মুলতবি হয়ে গেছে। দুই দিন বিরতি দিয়ে আগামী রোববার আবার বসবে অধিবেশন। তবে প্রথম অধিবেশনের আগে সংসদের উপনেতা হিসেবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
জাতীয় সংসদের উপনেতা পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদা ভোগ করেন। নবম, দশম ও একাদশ সংসদে উপনেতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। তিনি মন্ত্রী ছিলেন না। সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদে উপনেতা ছিলেন আওয়ামী লীগের আরেক নেত্রী মতিয়া চৌধুরী।
উপনেতার আসন সাধারণত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর পাশেই হয়ে থাকে। ত্রয়োদশ সংসদে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে বসছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে কি তিনিই সংসদ উপনেতা হতে যাচ্ছেন?
২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদ উপনেতা হয়েছিলেন একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তিনি শুরুতে মন্ত্রিসভায় ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে। পরে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে উপনেতার পদটি শূন্য হয়ে যায়। বিএনপি এরপর পুরো সময়ে উপনেতা হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে সে সময় যথেষ্ট আলোচনা–সমালোচনা ছিল। ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদেও উপনেতা ছিলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী। তবে সেবার সংসদে সংসদ নেতা খালেদা জিয়ার পাশের আসনটি বরাদ্দ ছিল সাবেক স্পিকার ও বিএনপির সে সময়ের প্রবীণ নেতা মির্জা গোলাম হাফিজের জন্য।

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বসতেন তৃতীয় আসনটিতে। বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে শুরুতে শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, পরে তিনি পদত্যাগ করে মন্ত্রী মর্যাদায় সংসদ উপনেতা হিসেবেই ১৯৯৬ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
দেশের ইতিহাসে প্রথম জাতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম। ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা চালু হয় দেশে। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গঠিত সংসদে উপনেতা হয়েছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি ছিলেন সহকারী প্রধানমন্ত্রী। বদরুদ্দোজা চৌধুরী সিনিয়র সহকারী প্রধানমন্ত্রী। সেবার সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান।
রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে একটি পদ ছিল। ১৯৯১ সালে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রবর্তনের পর সেই পদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সময় নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে ১৯৮৬ সালে তৃতীয় ও ১৯৮৮ সালে চতুর্থ সংসদ গঠিত হয়। তৃতীয় সংসদের উপনেতা ছিলেন কাজী জাফর আহমেদ। তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
চতুর্থ সংসদে উপনেতা ও উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ্ মোয়াজ্জেম হোসেন।

১৯৯৬ সালে সপ্তম সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। সংসদে উপনেতা করা হয় সে সময়ের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমানকে। তিনি ২০০১ পর্যন্ত উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। সেই সরকারে জিল্লুর রহমান ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর দায়িত্বে।
২০০৮ সালে অষ্টম সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতাসীন হয়, সংসদে আবারও উপনেতা হন জিল্লুর রহমান। তবে কিছু দিনের মধ্যেই তাকে রাষ্ট্রপতি করা হলে উপনেতার দায়িত্ব পালন শুরু করেন সাজেদা চৌধুরী। সাজেদা চৌধুরী ২০২২ সালে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংসদের উপনেতা ছিলেন।
ত্রয়োদশ সংসদে উপনেতা কী মির্জা ফখরুলই হতে যাচ্ছেন? ইঙ্গিত সেটাই দিচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন সংসদ নেতা তারেক রহমানই। সেই সিদ্ধান্তটা কবে আসবে, এখন দেখার বিষয় সেটিই।