
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবার তিনি ইরানে নতুন করে বড় হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর অনুরোধে তিনি হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন।

আবুধাবি মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, ড্রোন আঘাতের পর জেনারেটরটিতে আগুন ধরে গেলেও তা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। প্ল্যান্টের পারমাণবিক বিকিরণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ক্ষতি হয়নি।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ চলাকালীন সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর করেছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় বুধবার তার কার্যালয় এই ‘গোপন’ সফরের দাবি করে। তবে এই সফরের দাবি অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।

সেই যুদ্ধ থেকে রিয়াদ এই শিক্ষা পেয়েছে যে, আমেরিকা অজেয় নয়। তারা বুঝেছে, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেমের ইচ্ছেমতো এই অঞ্চল যেকোনো সময় যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে, যার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই।

ইরানের ভূখণ্ড থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার ছিল না বলে দাবি করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

ইউএই-র ওপেক ত্যাগ একটি বড় বার্তা বহন করে। এটি শুধু নীতিগত পরিবর্তন নয়। এটি একটি নতুন কৌশল। এখানে জ্বালানি নীতি, রাজনীতি ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা একসঙ্গে কাজ করছে। আবুধাবি ও রিয়াদ এখন শুধু মিত্র নয়, প্রতিদ্বন্দ্বীও। আর এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

অস্থির মধ্যপ্রাচ্যে একের পর এক বড় বড় সিদ্ধান্ত আসছে। তাতে খাদের কিনারায় আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। কিন্তু প্রতিটা পদক্ষেপেই লাভ হচ্ছে একটি দেশের, চীন। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধেও তাদের লাভ, যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলেও তাদের লাভ। এবার চীন হয়তো বিশ্ববাজারে আরও বড় লাফ দিচ্ছে। আর এ লাফেই তারা আমেরিকাকে দেখাতে

ওপেক থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকস্মিক বিদায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। তেলের উৎপাদন কোটা নিয়ে অসন্তুষ্টি এবং সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক দূরত্বের কারণেই এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত।

তারা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালভাবে তুলে ধরতেও আগ্রহী। যেহেতু গ্লোবাল সাউথের অনেক দেশই একসময় পশ্চিমা শক্তিগুলোর উপনিবেশ ছিল, তাই তারা ঔপনিবেশিক আমলের সেই ক্ষতি বা অন্যায়ের বিচার চায়, যা তাদের মতে বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাতেও বিদ্যমান।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেক-এর বিরুদ্ধে তেলের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে ‘বাকি বিশ্বকে ঠকানোর’ অভিযোগ তুলেছেন।

ইরান যুদ্ধ তাই শুধু একটি সামরিক সংঘাত নয়–এটি বৈশ্বিক আর্থিক শৃঙ্খলার একটি পরীক্ষা। হরমুজে ইউয়ান, আমিরাতের হুমকি, ইরানের ক্রিপ্টোকারেন্সিতে টোল আদায়–এই সবকিছু মিলিয়ে একটি বার্তা স্পষ্ট হচ্ছে: মার্কিন ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেই ভিত্তিটাই এই যুদ্ধে কাঁপছে।

একদিকে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে, হুতি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলিরা আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছে, হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা করা হচ্ছে– আর অন্যদিকে উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো নিজেদের উন্নয়নযজ্ঞে মত্ত।

প্রায় ৪০ ঘণ্টা পর আজ সকালে হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাইলে তেহরান তা প্রত্যাখ্যান করে।

দুবাইয়ে মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওরাকলের একটি ডেটা সেন্টারে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাত ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যার বলি হচ্ছেন সাধারণ প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সর্বশেষ সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় ড্রোন ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশির মৃত্যুতে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬-এ।

আন্তর্জাতিক রীতিনীতি ও সময়ের পার্থক্য বিবেচনা করলে, যদি সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৭ মে ঈদুল আজহা পালিত হয়, তবে বাংলাদেশে ২৮ মে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

হেনরি কিসিঞ্জার একবার বলেছিলেন, “আমেরিকার শত্রু হওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কিন্তু বন্ধু হওয়া সর্বনাশ।” বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি কি সেই সত্যকেই বারবার প্রমাণ করছে? ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই আবহে কেন সৌদি আরব বা কুয়েতের মতো দেশগুলো এখন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে দ্বিধায়?

ফুজাইরাহ মিডিয়া অফিস জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।

সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রবাসীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে অথবা টানা ১৮০ দিনের বেশি দেশের বাইরে অবস্থান করলে পুনরায় প্রবেশের জন্য নতুন এন্ট্রি পারমিট নিতে হয়। তবে সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তের ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রবাসীরা সেই বাধ্যবাধকতা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন।

ইরান বনাম ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান আঞ্চলিক যুদ্ধের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় দেশগুলোতে। আজ শুক্রবার সকালে ওমানের সোহার প্রদেশে ড্রোন হামলায় দুই বিদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন।

আলোচনায় সব ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার পরেও হামলা হওয়ায় ইরান আমেরিকার সাথে কথা বলতে রাজি নয়। বরং প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনির হত্যার পর ইরান আগের চেয়েও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের আলোচনা।

ইসলামাবাদের জন্য সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি হবে যদি উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। ইতোমধ্যে সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, ইরানের হামলা “রেড লাইন অতিক্রম করেছে।”