
দক্ষিণ ও পূর্ব ইসরায়েলি হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান জোরদার করার ঘোষণার পর হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ এই হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল ও আমেরিকা মিলে ইরানে হামলা শুরু করে। চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে একদিকে আমেরিকা বারবার বলছে, ইরান চুক্তি করতে বেশ আগ্রহী। আবার আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে নতুন করে হামলা হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান চুক্তির বিষয় নিয়ে তেহরানে অবস্থান করছেন।
পবিত্র হজের ঠিক আগ মুহূর্তে ইরানের ওপর বড় ধরনের এক রক্তক্ষয়ী হামলার ছক কষেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সৌদি আরবসহ আরব মিত্রদের তীব্র আপত্তি এবং নিজস্ব প্রশাসনের চরম হুঁশিয়ারির মুখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য হন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু কেন এই যুদ্ধ-পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, উপসাগরীয় মিত্রদেশগুলোর অনুরোধে তিনি ইরানে হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তবে তার এই দাবির একদিন পর সংশ্লিষ্ট কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এমন কোনো সম্ভাব্য অভিযানের বিষয়ে তারা অবগত ছিল না।

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভারতের জনগণকে বাড়ি থেকে কাজ করার, আন্তর্জাতিক সফর এড়িয়ে চলার এবং সোনা না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকা-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করেছে।

ইরানের সঙ্গে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে গেলে নতুন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন স্লেজহ্যামার’ শুরু করার কথা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের চরম উত্তেজনার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকট নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি সচল করতে ট্রাম্প চীনের সহযোগিতা চাইলেও, শি জিনপিংয়ের শক্ত অবস্থান ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এই আলোচনাকে বেশ জটিল করে তুলেছে।

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকালে দেশটিতে গোপনে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। সংশ্লিষ্ট দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা ও দুইজন ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

তবে ইরানের পাঠানো এই জবাবে ঠিক কী কী শর্ত বা বার্তা রয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি আইআরএনএ।

আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো ২০২০ সালে মধ্যপ্রাচ্যে স্বাক্ষরিত একগুচ্ছ কূটনৈতিক চুক্তি, যার মাধ্যমে কয়েকটি আরব দেশ প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে।

সেই যুদ্ধ থেকে রিয়াদ এই শিক্ষা পেয়েছে যে, আমেরিকা অজেয় নয়। তারা বুঝেছে, ওয়াশিংটন বা জেরুজালেমের ইচ্ছেমতো এই অঞ্চল যেকোনো সময় যুদ্ধের মুখে পড়তে পারে, যার চরম মূল্য দিতে হবে প্রতিবেশী দেশগুলোকেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ফিনান্সিয়াল টাইমসকে জানিয়েছে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ট্রাম্পের দেওয়া হামলার হুমকি রিয়াদকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, এতে তেহরানের পক্ষ থেকে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইসরায়েল জোটের যুদ্ধ নিয়ে প্রতিনিয়তই চলছে নতুন নতুন জল্পনা-কল্পনা। সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও থেমে নেই উত্তেজনা। সেই সাথে আছে দুই পক্ষরই অনমনীয় অবস্থান। তবে গতকাল বুধবার থেকে কিছুটা আশার আলো দেখা যাচ্ছে।

ইরানে হামলা কতটা নেতিবাচক হতে পারে তা হয়ত এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে না যুদ্ধে জড়াচ্ছেন, না ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ থেকে সরতে পারছেন। এরইমধ্যে বিপত্তি ঘটেছে, বাঙ্কার বাস্টার নিয়ে।

ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু করা যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামের সামরিক অভিযান শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

আমেরিকা অন্য দেশগুলোর ওপর নীতি চাপিয়ে দেওয়ার অবস্থানে আর নেই বলে মনে করে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। আমেরিকার পক্ষে যারা কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন তাদের যোগ্যতা নিয়ে তুলেছে ইরান। বিস্তারিত শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের বিশ্লেষণে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান তা পর্যালোচনা করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরান যুদ্ধ নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মের্জের সাম্প্রতিক মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেন্টাগন। গতকাল শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এই ৫ হাজার সেনাকে জার্মানি থেকে সরিয়ে যুক্তরাষ

লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে ইরান। শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংকটের স্থায়ী সমাধানই তাদের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছে তেহরান।

প্রকাশ্যে যুদ্ধক্ষেত্রের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালে প্রতিরক্ষা দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছেন।