
দ্বিগুনের বেশি দামে মার্চ মাসের জন্য বাংলাদেশ দুই কার্গো এলএনজি কিনেছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। ফলে চলতি মাসের জন্য এলএনজির কোনো ঘাটতি হবে না বলেও নিশ্চিত করেছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাতের জেরে কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করার পর প্রথমবারের মতো একটি এলএনজি কার্গো বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় আজ থেকেই দেশে গ্যাস রেশনিং (সাশ্রয়) শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পেট্রোবাংলা।

ড্রোন হামলার জেরে কাতার এনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে দেশটির জ্বালানি কোম্পানিগুলো।

আইএনজির কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি প্রধান ওয়ারেন প্যাটারসন সতর্ক করে বলেন, "যদি কাতার থেকে সরবরাহ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ থাকে, তবে ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম পার মেগাওয়াট আওয়ারে ৮০ থেকে ১০০ ইউরো পর্যন্ত উঠে যেতে পারে।"

কাতারের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ইরানি ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে।

আপাতত সরবরাহ নিশ্চিত থাকলেও আর্থিক ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতি মাসে জ্বালানি আমদানিতে ৪৫০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও বিমার প্রিমিয়াম বেড়ে গেলে এই খরচ আরও বাড়বে।

দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ আবারও হ্রাস পেয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মনালের একটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের স্বল্পচাপ তৈরি হতে পারে।

নতুন বছরে নতুন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, এলএনজি আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন রুপান্তরিত প্রকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের অপর উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী কে. এম. জহিরুল ইসলাম।

দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার মজুত ফুরিয়ে আসছে। এক হিসাবে দেখা গেছে বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমেছে প্রায় ৩৭ শতাংশ। একই হারে সার্বিক গ্যাস উৎপাদনও কমেছে। এ অবস্থায় গ্যাসের সংকট মেটাতে আমদানির ওপরই ভরসা রাখা হচ্ছে।