
বর্তমানে দৈনিক সরবরাহ ২৬০০–২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। যেখানে চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট-এর বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট আসে আমদানিকৃত এলএনজি থেকে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

চলতি মে মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ফলে এ মাসেও ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকাই থাকছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ভোক্তা পর্যায়ে বেসরকারি এলপি গ্যাসের দাম আবারও বাড়িয়েছে। গত ১৯ এপ্রিল (২০২৬) এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করেছে।

এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় তিতাস গ্যাস অধিভুক্ত এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকবে। আজ মঙ্গলবার এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস।

শনিবার রাতে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম গড়ে ১৬ শতাংশ বাড়িয়েছে সরকারের জ্বালানি বিভাগ। পাশাপাশি আজ রোববার বিকেলে এপ্রিল মাসেই দ্বিতীয় দফায় এলপি গ্যাসের ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বাড়িয়ে করা হয় ১৯৪০

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১,৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকেই এই নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শামসুল আলম শিমুর সর্বোচ্চ ৪০টি গ্যাস সিলিন্ডার মজুতের অনুমতি থাকলেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টি গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার নিজ বাড়িতে মজুত করে রাখেন।

ভোক্তাপর্যায়ে বাড়ানো হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। চলতি এপ্রিল মাসের জন্য প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি বহনকারী ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকার ইতোমধ্যে কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে।

এলএনজি ব্যবস্থার বড় সীমাবদ্ধতা হলো এর ব্যয়। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী আমদানি করা এলএনজির দাম দেশীয় গ্যাসের তুলনায় প্রায় ২০ গুণ বেশি। বর্তমানে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৩.৫-৪ মিলিয়ন টন এলএনজি আমদানি করে, যার জন্য বছরে প্রায় ২-৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় হয় বলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এনার

গত মাসের ২৩ ফেব্রুয়ারি সবশেষ সমন্বয় করা হয় এলপি গ্যাসের দাম। তখন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১৫ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৩৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

দেশজুড়ে গ্যাস সরবরাহ আবারও হ্রাস পেয়েছে। এক বিজ্ঞপ্তিতে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মনালের একটির রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত কাজের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের স্বল্পচাপ তৈরি হতে পারে।

এই মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সার্বিকভাবে, ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে রাজধানীতে আনার চেয়ে স্থানীয়ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পাইপলাইন স্থাপন করা অর্থনৈতিকভাবে বেশি লাভজনক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। এখন দেখার বিষয়, বিইআরসি ও সরকার বিপিডিবির এই ৯৩০ কোটি টাকা সাশ্রয়ের প্রস্তাবকে কতটা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে।

ভোলার গ্যাস এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আকারে দেশের মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ নির্ধারণের লক্ষ্যে গণশুনানি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আজ মঙ্গলবার এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এলএনজি থেকে পাওয়া গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগামীকাল শনিবার দুপুর ১২টা ২৪ ঘণ্টা ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস স্বল্পচাপ থাকবে বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

সমন্বিত ব্যবস্থার অভাবে একজন অপারেটরকে ১০টির বেশি দপ্তর থেকে প্রায় ২৬টি আলাদা লাইসেন্স নিতে হয়, যা প্রতি বছর নবায়ন করা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

দেশে প্রায় এক হাজার এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন রয়েছে। প্রায় দেড় লাখ যানবাহন এলপিজিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তবে বর্তমান সংকটে প্রায় সব স্টেশন অচল হয়ে পড়ায় এসব যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

গত দুই সপ্তাহ ধরে গ্রাহকদের চড়া মূল্যে এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। তার মধ্যে বৃহস্পতিবার সারা দেশে সিলিন্ডার বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা। ফলে গ্রাহক ভোগান্তি এখন চরমে।

কমিশন বৃদ্ধি, বিইআরসি কর্তৃক একতরফা মূল্য ঘোষণা বন্ধসহ ৬ দফা দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। দাবি মেনে নেওয়া না হলে ৮ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এলপিজি সরবরাহ ও বিপণন বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি

২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপি গ্যাসের দাম আগের চেয়ে ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১২৫৩ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। আন্তর্জাতিক বাজার দর এবং ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে অনুযায়ী এলপিজির দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু বাজারের বাস্তবতা ভিন্ন।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রফিক আলমের বাসায় পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা রয়েছে। এ জন্য তাকে নিয়ম মেনে বিলও পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ঘরের রান্নার কাজে তাকে বাজার থেকে এলপিজি কিনে ব্যবহার করতে হয়। এ জন্য তাকে প্রতি মাসে হাজার টাকার বেশি বাড়তি গুনতে হয়।