
যদি এই পদ্ধতিগুলোর পরেও মাংস বের না হয়, লালা গিলতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বুকে ব্যথা শুরু হয় কিংবা ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অস্বস্তি বজায় থাকে— তবে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে খুব সহজেই এটি বের করতে পারেন।

কোরবানির ঈদে গরুর মাংসের পাশাপাশি খাসির নানা পদ রান্না হয় বাসা-বাড়িতে। ঈদ স্পেশাল আয়োজনে খাসির রেজালার খোঁজে খাওনদাওন টিম গিয়েছিল মোহাম্মদপুরের অন ফায়ার রেস্টুরেন্টে। কিন্তু সেখানে খাসির রেজালা বলে যেটা বিক্রি হয় সেটা আসলেই কি তাই?

সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া বিক্রি হয়েছে অত্যন্ত কম দামে। ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ বিক্রেতারা।

ঈদুল আজহা তো পালিত হয় জিলহজ মাসের দশম দিনে, ঈদুল গাদির পালিত হয় একই মাসে, ১৮তম দিনে। ঈদুল গাদিরে অবশ্য পশু কোরবানি দেওয়া হয় না। মূলত বিশেষ নামাজ আদায় ও রোজা রাখা হয়।

ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গাজা সিটির ফিলিস্তিনিরা ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। এরপর কেউ কেউ ছুটে গেছেন প্রিয়জনদের কবর জিয়ারত করতে। তবে তাদের কারোরই আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় আর কোরবানি দেওয়া হয়নি।

ঈদুল আজহায় অনেকে সকাল থেকে ব্যস্ত কোরবানি দেওয়ার কাজে। পশু কোরবানির পর শুরু হয়ে মাংস কাটা ও ভাগ করার কাজ। পরিশ্রমের কাজ হলেও মানুষ আনন্দ নিয়েই এই কাজে যুক্ত হয়।

যখন লাখো মানুষ নাড়ির টানে ঢাকা ছেড়ে যাচ্ছেন, তখন একটি সম্পূর্ণ বিপরীত স্রোত এই শহরে প্রবেশ করছে। এই মানুষগুলো আসছেন আনন্দ করতে নয়—বেঁচে থাকার লড়াইয়ে। কেউ বস্তা হাতে, কেউ ধারালো চাপাতি কাঁধে, কেউ আবার অসুস্থ সন্তানকে বুকে আঁকড়ে।

গরু কেনা, তারপর কয়েকদিন তার যত্ন নেওয়া এবং শেষে কোরবানি দেওয়া—এই পুরো আয়োজন সামলানো অনেকের জন্যই কঠিন। কঠিন কাজটিকে সহজ করে দিচ্ছে রাজধানীর ‘সিটি ফার্মার’। কোরবানি আপনার, দায়িত্ব আমাদের’ স্লোগান নিয়ে ২০২০ সাল থেকে এই প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। তারা ভাগে গরু কোরবানি দেওয়ার ব্যবস্থাও করে দেয়।

এদিকে গাবতলী হাটে দুপুরের পর থেকে বেশ সরগরম পরিবেশ দেখা গেছে। সেখানে মাঝারি ও বড় আকারের গরুর বেচাকেনা বেশি হচ্ছে। গত দুদিনের বৃষ্টির কারণে ব্যবসায় কিছুটা মন্দা গেলেও, আজ আবহাওয়া ভালো থাকায় ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মধ্যেই স্বস্তি ফিরেছে।

দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। অনেকেই কিনেছেন কোরবানির পশু। সেসব পশুর জন্য প্রয়োজন খাবার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছেন খৈল, কুঁড়া, ভুসি ও ঘাস।

টানা বৃষ্টিতে রাজধানীতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। আজ বুধবার সকাল থেকেও ঝরছে বৃষ্টি। এতে ঈদুল আজহার প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে। সেই সঙ্গে নিচু এলাকার সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী ও ঘরমুখো মানুষরা।

কোরবানির পশুর হাটে এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি। অনেকে ক্রেতারা জানিয়েছেন, আগের তুলনায় এবছর গরুর দামও কিছুটা বেশি। খামারিরা জানিয়েছে, পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দামও গতবারের চেয়ে একটু বেড়েছে।

এবার রাজধানীর অধিকাংশ অস্থায়ী পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ গেছে বিএনপি ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাদের হাতে। কোথাও তারা সরাসরি ইজারাদার, আবার কোথাও আড়াল থেকে পুরো হাট পরিচালনা করছেন। কয়েকটি এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের অনুসারীরাও হাট পরিচালনায় সক্রিয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে কাজলা গরুর হাটে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সকালের ভারী বর্ষণে পুরো হাটে পানি জমে যায়, বিপাকে পড়েন ক্রেতা ও বিক্রেতারা। ভিডিও: আরমান হোসেন মুরাদ

১৮৮৯ সালে প্রকাশিত হয় মশাররফ হোসেনের ‘গো-জীবন’ শিরোনামের প্রবন্ধের বই। এই বইয়ে তিনি মুসলমানদের গরু জবাইয়ের তীব্র বিরোধিতা করেন।
সারা দেশে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী স্টেরয়েড জাতীয় হরমোন প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করার প্রতিযোগিতায় নামেন। অনেকে অসুস্থ গরুও বিক্রি করতে নিয়ে আসেন। ক্রেতারা কীভাবে চিনবে কোনটি সুস্থ গরু?

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এবার পশুর হাটকেন্দ্রিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আগেভাগেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ মেশিন, সিসিটিভি মনিটরিং, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সদস্য, মোবাইল টহল ও অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প রাখা হয়েছে প্রতিটি হাটে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকায় লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন কোনো পশুর হাটের স্থান পরিবর্তন বা বাতিল করতে পারবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে বিষয়টি জানানো হবে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ গবাদি পশু রয়েছে। আমদানির প্রয়োজন নেই। কোরবানির পশুর দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।