
শান্তিচুক্তিতে দ্রুত অগ্রগতি না হলে তেহরানের জন্য খুব খারাপ সময় অপেক্ষা করছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর আল জাজিরার।

ইরানের পক্ষ থেকে আসা অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাব এবং আলোচনার ধীরগতিতে হতাশ হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের ওপর পুনরায় সামরিক হামলার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন। পাকিস্তানের মধ্যস্থতা নিয়ে ওয়াশিংটনের মনে সন্দেহ দানা বাঁধছে।

আমেরিকার সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে সাড়া দিয়ে ইরান যে জবাব দিয়েছে সেটি পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় রোববার তিনি এমনটি জানান। এর আগে পাকিস্তানের মাধ্যমে নিজেদের জবাব দিয়েছিল তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান তা পর্যালোচনা করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ভূমিকা নতুন করে আলোচনায় এসেছে, যা অস্ত্রের চেয়ে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থনের ওপর বেশি নির্ভরশীল।মস্কো দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা নিচ্ছে এবং একতরফা নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক সমাধানের বিরোধিতা করছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, আনতালিয়া কূটনীতি ফোরামের সাইডলাইনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও ইরানের উপ–পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহর সাম্প্রতিক বৈঠককে স্বাগত জানানো হয়েছে। এতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর অবরোধের মুখে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে তেহরান। শনিবার এই জলপথ পার হওয়ার সময় অন্তত দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ইরানি নৌবাহিনীর গুলিবর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইরানকে এক রাতের মধ্যে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই হুমকিকে পাত্তা দিচ্ছে না ইরান। তারা যুদ্ধ বন্ধের স্থায়ী সমাধান চেয়েছে। তেহরান বলেছে, তার ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। ট্রাম্প কি তা করবেন?

মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর সরাসরি হামলা বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হতে পারে। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, তেহরানের নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা এবং কোনো চুক্তি ছাড়াই এই সংঘাত কমিয়ে আনা হতে পারে। এই যুদ্ধ নিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যে

সোমবার মধ্যরাতে ইসরায়েলের আকাশে গুচ্ছ বোমাবাহী মিসাইল ছুড়েছে ইরান, যার জেরে দেশজুড়ে বেজে ওঠে সাইরেন। যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও পানিকেন্দ্রে হামলার পাল্টা হুমকি দিয়েছে তেহরান। এর পরপরই শনিবার রাতের হামলার কঠিন জবাব হিসেবে তেহরানে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত শাসনব্যবস্থার সবচেয়ে বড় হুমকির মুখোমুখি ইরান। দেশটি হারিয়েছে তাদের বহু নেতা। তা সত্ত্বেও এই সংঘাত দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে তেহরান।

লাতিন আমেরিকায় মস্কোর গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করেছে। কিন্তু রাশিয়া কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি। এই সব ঘটনাই বিশ্বজুড়ে পরিস্থিতি প্রভাবিত করার ক্ষেত্রে রাশিয়ার শক্তির সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে।

ইরানের নিরাপত্তাপ্রধান আলী লারিজানিকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের তেল আবিবে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত (গুচ্ছ বোমা) ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালিয়েছে তেহরান। আজ বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ‘কার্যত ধ্বংস’ করার দাবি করেছে আমেরিকা ও ইসরায়েল। তবে মাঠের চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সক্ষমতা হ্রাস পেলেও তেহরান এখনও প্রতিবেশী দেশ এবং ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতি এখন সামরিক বিশেষজ্ঞদের নতুন আলোচনার বিষয়।

যু*দ্ধের তৃতীয় সপ্তাহেও ইরানের রাজধানী তেহরানে জীবন অনেকটাই স্বাভাবিক। বিমান হামলার মধ্যেও কাজে যাওয়া ও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বাসিন্দারা। এদিকে খারগ দ্বীপে হামলার পর আরও আঘাতের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।

ইরান জানিয়েছে, তারা এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেসব দেশও ইরানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইরানের রাজধানী তেহরানে সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলি বাহিনী এই অভিযানকে ইরানি সন্ত্রাসী শাসনের সদর দপ্তর গুঁড়িয়ে দেওয়া হিসেবে অভিহিত করেছে। স্যাটেলাইট চিত্র এবং রাস্তার মানচিত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স নিশ্চিত করেছে যে, হামলার স্থানটি তেহরানের ভেতরেই অবস্থিত।

ইরানের রাজধানী তেহরানে এখনও হামলা চলছে। সকাল থেকে কয়েক দফা তেহরানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতা এবং উন্নত যুদ্ধবিমান মোতায়েন নিশ্চিতভাবেই আমেরিকার এই দুরভিসন্ধির জানান দিচ্ছিল। গতবছর জুনেও ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালায় আমেরিকা। তবে এটাই ইরান আমেরিকা সংঘাতের সূত্রপাত নয়। এর এক দীর্ঘ ইতিহাসও রয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে পাঁচ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।