
শেষ দিনে তিন উইকেট হাতে রেখে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ঢাকার মতো সিলেটে কি জয় তুলে নেবে বাংলাদেশ, নাকি তবে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর এক সমাপ্তি।

চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে ২৪ ওভার খেলা হয়েছে। পাকিস্তানের সংগ্রহ ২ উইকেটে ১০২। জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন আরও ৩৩৬ রান।

শতক পূর্ণ হতেই সেই খ্যাপাটে উদযাপন। এক হাতে ব্যাট ঘুরিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কী যেন বললেন। এরপর ‘কাম অন’ চিৎকারে পাকিস্তানের অসহায় বোলারদের যেন আরও কুঁকড়ে দিতে চাইলেন।

৫৭ রানে একবার জীবন পান লিটন। এরপর যোগ করেন আরও ১২ রান। তবে ৯২ বলে তার ৬৯ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার আশাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে।

প্রথম টেস্টের ফর্ম টেনে এনে দ্বিতীয় টেস্টের সকালেও ছিলেন ছন্দে। তবে এরপরই অজানা কারণে অতিরিক্ত সাবধানী ব্যাটিং করেন নাজমুল হোসেন। পরে বাজে শটে আউট হন। ভুল থেকে শিক্ষা না নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসেও একই কাজ করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। স্বভাবসুলভ ক্রিকেট না খেলে হয়ে গেলেন খোলসবন্দী।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একজন বোলারের তিনটি বলের গতি ঘণ্টায় ১৪৮; ১৪৯ ও ১৫০ কিলোমিটার বেগে–এমন দৃশ্য বছর তিনেক আগেও ছিল যেন ‘অলীক কল্পনা’! আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাহিদ সেটাই করে দেখিয়েছেন।

১৭তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের মিডল স্টাম্প লাইনের ডেলিভারি, মাহমুদুল হাসান জায়গায় দাঁড়িয়ে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারলেন চার। এই শটেই পূর্ণ হয় ফিফটি। গোটা ইনিংসে শুধু এই শটটাই যেন সিলেট টেস্টে তাকে খেলানো নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব।

প্রথম টেস্টে ৫ উইকেট নিলেও নাহিদ রানার অসাধারণ এক স্পেলে আড়ালেই ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। তবে দেশের মাটিতে টেস্টে যে তিনি বরাবরই ভীষণ কার্যকর এক বোলার, তার প্রমাণ রাখলেন সিলেটেও। দ্বিতীয় দিনের সকালের সেশনে পাকিস্তানকে চাপে রাখলেন বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং দিয়ে। আর অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদ উপহার দিলেন আরেক

মোহাম্মদ আব্বাস প্রথম ইনিংসে নেন ৫ উইকেট। দুই ইনিংসেই ভালো করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি ও হাসান আলিও। তবে ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়া বাংলাদেশের পেসার নাহিদ রানার ধারেকাছেও ছিলেন না তারা। আব্বাসের কিছু ডেলিভারি ছিল মিডিয়াম পেস গতির।

এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ছন্দে ছিলেন না নাহিদ। রানও দেন বেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে চার উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় ১০৪ রানের জয়।

পাঁচ দিনের দুর্দান্ত ক্রিকেটের পর প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ পেয়েছে ১০৪ রানের জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই মেহেদি হাসান মিরাজকে টানা দুই চার মেরে পাল্টা আক্রমণের আভাস দেন ফজল। বার্তাটা ছিল স্পষ্ট—টার্নিং উইকেটে স্পিনারদের চেপে বসতে দিতে চান না। উইকেটে স্পিন ধরলেও অন্যপ্রান্তে নাহিদ রানা ও তাসকিন আহমেদকে দিয়েই আক্রমণ চালিয়ে যান বাংলাদেশ অধিনায়ক।

প্রথম সেশনটা বল হাতে দুর্দান্তই কেটেছিল বাংলাদেশের। শক্ত অবস্থানে থাকা পাকিস্তানকে অনেকটাই চাপে ফেলে দিয়েছিলেন বোলাররা। তবে পরের সেশনে ধার কমে গেছে তাদের। নতুন বল নিয়ে কিছুটা ঝলক দেখালেও পেসাররা দেখা পাননি উইকেটের। শেষ সময়ে একমাত্র সাফল্য এসেছে স্পিনার তাইজুল ইসলামের হাত ধরে। বাংলাদেশের জন্য কঠিন এক

মাত্র তিন ওভার করেই আক্রমণ থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো নাহিদ রানাকে। একপ্রান্তে স্পিনার রেখে অন্যপ্রান্তে ইবাদতকে না এনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন ভরসা রাখলেন সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার তাসকিন আহমেদের ওপর। আগের দিন মাত্র ৮ ওভার করলেও ছিলেন না ছন্দে। সমালোচনাও হচ্ছিল কিছুটা। তবে তাসকিন সব জবাব দিলেন বল হাতেই। দারুণ অবস

পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ শেষ পাঁচ উইকেট হারিয়েছে ৫৯ রানে। এই ব্যর্থতায় ইনিংস থেমেছে ৪১৩ রানেই। চা বিরতিতে পাকিস্তান বিনা উইকেটে করেছে ৫০ রান।

প্রথম দিনের শেষ বেলায় সুযোগ ছিল ফিফটি তুলে নেওয়ার। তবে ১০১ টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা থেকে মুশফিকুর রহিম জানতেন, তার উইকেটের মূল্য কত। সেই একই টেম্পারামেন্ট দ্বিতীয় দিনেও দেখিয়ে চলেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের সবাই সাজঘরে ফিরে যাওয়ায় প্রথম ইনিংসে বড় স্কোর গড়াটা হয়ে উঠেছে চ্যালেঞ্জিং। তব

প্রথম সেশন থেকেই আব্বাসকে মোকাবিলা করতে নাজমুল ব্যাট করেন ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে। যাতে করে সুইংটা কার্যকর না হয়। এই পদ্ধতি এতটাই কাজে দেয় যে, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে কিপারকে সামনে এনে গতি কমিয়ে বোলিং করেন আব্বাস।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করা এক পোস্টে এই অবস্থান ব্যক্ত করেন তিনি।

দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে টুর্নামেন্টে অংশ নিলেও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত ম্যাচে মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত অংশ নেবে কি না, তা জানতে এখন অপেক্ষা করতে হবে আগামী কয়েক দিন। তবে এরই মধ্যে তারা দল ঘোষণা করে ফেলেছে।

ভারতে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে না বাংলাদেশ। এ ব্যাপারে অনড় অবস্থানেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। বাংলাদেশ সরকারের অবস্থানও পরিস্কার—কোনোভাবেই ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে পাঠানো হবে না। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের মন্তব্যেও ব্যাপারটি পরিষ্কার।

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নিলে পাকিস্তানও একই পথে হাঁটবে—সরকারি সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল জিও সুপার এমন খবরই দিয়েছে। চ্যানেলটির দাবি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ মুহূর্তে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আইসিসির বৈঠকগুলোর দিকে নজর রাখছে। এ ব্যাপারে