
পরমাণু বিজ্ঞানীরা মনে করেন, রূপপুর টানা ৬০ বছর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেবে, এটা বাস্তব। কিন্তু আতঙ্ক নিয়ে ৬০ বছর এই কেন্দ্রের পাশে বসবাস! সেটা অবাস্তব

রূপপুরের সবচেয়ে সংবেদনশীল বিতর্কগুলোর একটি হলো এর জনঘনত্ব প্রেক্ষাপট। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী এলাকায় প্রকল্পটি অবস্থিত, যেখানে আশপাশে ঘনবসতিপূর্ণ গ্রামীণ জনপদ রয়েছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণে সাধারণত বড় দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ৩০-৫০ কিলোমিটার রেডিয়াসের ইমার্জেন্সি প্ল্যানিং জোন (ইপিজেড) বিবেচনা করা হয়।

পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্রগুলোকে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি)’র আওতায় তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে। নিরাপত্তার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ৯০০-এর বেশি প্রশিক্ষিত বাংলাদেশি জনবল এই প্রকল্পে কাজ করছেন।

প্রায় এক লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই প্রকল্পের ৯০ শতাংশ অর্থ ঋণ দিচ্ছে রাশিয়া, যেটা ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।

২৮ এপ্রিল (২০২৬) পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে শুরু হবে ‘ফার্স্ট ফুয়েল লোডিং’। এটি শুধু একটি কারিগরি ধাপ নয়; দেশের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুতের বাস্তব যুগে প্রবেশের সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম ইউনিটের জ্বালানি (ফুয়েল) লোডিং কার্যক্রম। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎপাদনে যাওয়ার প্রাথমিক ধাপ বা ‘ফিজিক্যাল স্টার্টআপ’ পর্যায়ে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ।

রূপপুর সফলভাবে পরিচালিত হলে তা কেবল শিল্পের চাকাই সচল করবে না, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মেরুদণ্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবে। এটি কি বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতার পথ দেখাবে, নাকি নতুন ধরনের বৈশ্বিক নির্ভরতা তৈরি করবে, তার উত্তর হয়তো দেবে আগামী কয়েক দশক।

ইউরেনিয়াম লোড করতে সাধারণত ২১ থেকে ৩০ দিন সময় লাগে। জ্বালানি লোড থেকে শুরু করে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ১০০ দিন বা তিন থেকে চার মাস সময় লাগতে পারে।

পারমাণবিক অ/স্ত্রধারী রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের বর্তমান অবস্থান থেকে কখনোই সরবে না উত্তর কোরিয়া। অর্থনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে পারমাণবিক অ/স্ত্র কমানোর প্রস্তাব পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন কিম জং উন। দক্ষিণ কোরিয়াকে সবচেয়ে বড় শত্রু আখ্যা দিয়ে যেকোনো অপচেষ্টায় কঠোর প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া আল্টিমেটাম শেষের পথে। পাল্টাপাল্টি হামলায় নাজেহাল অবস্থা ইসরায়েলের। দেশটির পারমাণবিক স্থাপনার পাশে হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বাজানো হয়েছে সতর্ক সংকেত, বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার কথা জানানো হয়েছে।

রাশিয়া ও ইউক্রেন সংঘাত চার বছর ধরে চলছে। ইউক্রেনের বড় অংশ রাশিয়া দখল করে নিলেও যুদ্ধ শেষ হয়নি। এই সংঘাত কোন পথে এবং কী হতে চলেছে শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের আলোচনায়।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে অতিরিক্ত ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

জাপান বরাবরই জ্বালানি আমদানির ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তাই তারা প্রথম থেকে পারমাণবিক শক্তি গ্রহণকারী দেশের একটি হয়ে ওঠে। কিন্তু ২০১১ সালের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পরপরই জাপান তাদের মোট ৫৪টি চুল্লির সবকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।

আগামী মাসের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোড করা শেষ হবে। এর পরের মাস অর্থাৎ মার্চে এখান থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে বলে আশা করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে আলেক্সান্ডার খোজিন বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও গত তিন বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য লেনদেন দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি রয়েছে।

ফুকুশিমা বিপর্যয়ের এক দশকেরও বেশি সময় পর পারমাণবিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে জাপান। দেশটির নিইগাতা অঞ্চল আজ সোমবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কাশিওয়াজাকি-কারিওয়ারি পুনরায় চালুর অনুমোদন দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রথম দিকে রাশিয়া কিয়েভের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে এক মাসেরও বেশি সময় প্ল্যান্ট এবং আশেপাশের এলাকা দখল করে রেখেছিল রাশিয়া।

জানুয়ারিতে ১ হাজার ৩৫৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিট ৬ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে টোকিও অঞ্চল এককভাবে ২ শতাংশ অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাবে, যা জাপানের বাড়তে থাকা বিদ্যুৎচাহিদা মেটাতে ভূমিকা রাখবে।

২০১১ সালের মার্চে জাপানে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প ও এর জেরে সৃষ্ট সুনামির আঘাতে ফুকুশিমা দাইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এটাকে অন্যতম বড় পারমাণবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বৈশ্বিক নিরস্ত্রীকরণ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, দুর্বল হয়ে পড়া আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করতে হবে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।