
একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আবির্ভূত হওয়ার মতো যথেষ্ট জায়গা এখন রয়েছে। এমনকি যদি সেটি একটি তেলাপোকার রূপ ধারণ করে বা পোশাকে সেজেও আসে।

বিজেপির এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে তাদের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের শরিক দলগুলো অনেক বেশি সতর্ক এবং বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে অন্ধ্র প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল টিডিপি বা তেলুগু দেশম পার্টি সরকারের পক্ষ থেকে ককরোচ জনতা পার্টির হ্যান্ডেলটি বন্ধ করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছে না।

ক্রিস স্মিথ ভারতকে একটি চরম ঐতিহাসিক ভুলের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, অতীতে ঠিক এই একই দমনমূলক পথ অবলম্বন করেছিল সোভিয়েত রাশিয়া, কমিউনিস্ট চীন এবং অন্যান্য একনায়কতান্ত্রিক কমিউনিস্ট সরকারগুলো, যারা চার্চ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি জবরদস্তিমূলকভাবে জাতীয়করণ করেছিল।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী নামমাত্র প্রচারেই দায় সেরেছেন। পশ্চিমবঙ্গ বাদ দিলেও অন্য রাজ্যেও কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বা প্রচারের জৌলুস বিজেপির তুলনায় নিমিত্ত মাত্র।

আখতার আহমেদ বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল এখনো নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেনি, তাদের উদ্দেশে সময়সীমা নির্ধারণ করে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ভারত কখনো শুষ্ক মৌসুমে তিস্তার উজানের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে কোনো চুক্তি করেনি। ফলে ভাটিতে থাকা বাংলাদেশকে প্রতি বছর তার কৃষিভিত্তিক অঞ্চল আরও একটু করে শুকিয়ে যেতে দেখতে হচ্ছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নবগঠিত বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তকে অগ্রাধিকার দেয়, তখন সেটি কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা কঠিন হয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, এটি কি সত্যিই নিরাপত্তার প্রয়োজনে, নাকি রাজনৈতিক বার্তা?

বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে একটা বাড়তি আগ্রহ রয়েছে বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশেষ করে সেখানকার রাজ্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের দিকেই নজর থাকে সীমান্তের এপারের বাসিন্দাদের। এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর সেই আগ্রহ আরও বেড়ে গেছে।

২০২১ সালের নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মামলাগুলো পুনরায় শুরুর নির্দেশ এবং ১৬ মে থেকে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে বড়সড় অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো তৃণমূলের রাজনৈতিক ভিত্তিকে আইনিভাবে দুর্বল করা।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ভারত আমাদের সবচেয়ে বড় প্রতিবেশী। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে কখনোই ঝগড়া-বিবাদ করে চলার পক্ষপাতী নই, আমরা সুসম্পর্ক চাই। কিন্তু যখন আমাদের সীমান্তে আমাদের নিরপরাধ নাগরিকদের গুলি করে হত্যা করা হয়, তখন তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না।”

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ‘মুসলিম নির্যাতন’ চলতে থাকলে ‘প্রয়োজনে’ কলকাতা অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা মামুনুল হকের দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

বাংলাদেশ থেকে আসা তথাকথিত অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের বের করে দেওয়া বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি পশ্চিমবঙ্গে দলটির নির্বাচনী জয়ে বড় ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে এই ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কোনো ঐকমত্য না থাকায়, বিষয়টি ঢাকা সহজভাবে নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এর কী প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে? তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি কি এবার হবে? পুশ ইনের আশঙ্কা আসলে কতটা? এ নিয়ে বিএনপি, জামাায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, সিপিবি-বাসদসহ বাদ দলগুলো কী ভাবছে?
পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে বিজয়ের পর বিজেপি প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করতে চলেছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ মে পর্যন্ত মমতা-সরকারের মেয়াদ ছিল। বিধানসভার অস্তিত্বও আর নেই। এখন কী হবে? কেনইবা মমতার এমন ভরাডুবি? তার ‘মুসলিম ভোট ব্যাংকের’ কী হলো?

পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার আগামীকাল কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ করবেন। এই অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, বিজেপি সভাপতি নীতিন নবীন, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীগণ এবং বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন।

বিশ্লেষণটি এটিই স্পষ্ট করে যে, ২০২৬ সালের এই মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নতুন বিজেপি সরকার এই রাজ্যের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে। তবে একটি বিষয় আমাদের মনে রাখা উচিত–শাসনের ধরন হতে হবে সুশৃঙ্খল এবং পদ্ধতিগত, যা অসংখ্য নাগরিকের (যাদের কথা ওপরে উল্লেখ করা হয়েছে) হৃদয় স্পর্শ করবে, যাতে আমাদের রাজ্য দ্রুত জাতীয় স্তরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি দুই শতাধিক আসনে জয় পেয়ে রাজ্য সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। রাজ্যটিতে প্রথমবারের মতো বিজেপি জয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই আলোচনার তুঙ্গে রয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও পুশ ইনের বিষয়টি।

ভোট পরবর্তী হিংসায় মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথ খুন হওয়ায় রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুল তুললেও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পুলিশি ধরপাকড় চললেও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রাণহানি এবং সংঘাত এখন চরমে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির নানা দিক নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক তরুণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণে।

নির্বাচিতদের অভিনন্দন জানিয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চরচাকে বলেন, “ভারতের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তাদের নেতা নির্বাচন করেছে। সেখানে কোন দল ক্ষমতায় এল-না এল তা মুখ্য না। তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যথাও নেই। আমরা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করি। তাই যে-ই

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলমান রাজনৈতিক সহিংসতার মধ্যে এবার খুন হলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ। গতকাল বুধবার গভীর রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে তিনি নিহত হন।