
নিউজিল্যান্ডের শেষের দিকে ব্যাটসম্যানরা অবশ্য পারেননি দ্রুত রান তুলতে। ফলে থামতে হয় ৮ উইকেটে ২৪৭ রানে। ইনিংসে বাংলাদেশের সেরা বোলার শরীফুল ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষ হলো বাংলাদেশকে ছাড়াই। ১৯৯৬ সালের পর এই প্রথম ক্রিকেটের কোনো বিশ্বকাপে ছিল না বাংলাদেশ। কিন্তু বিশ্বকাপ না খেলে, কী লাভ হলো বাংলাদেশের? বিষয়টি কী শুধুই আত্মগরিমার ব্যাপার? ক্রীড়া সাংবাদিক আতিফ আজম কলকাতা গিয়েছিলেন বিশ্বকাপের দুটি ম্যাচ কাভার করতে।

বিশ্বকাপ কি শেষ পর্যন্ত বয়কটই করবে বাংলাদেশ? আইসিসির প্রতিনিধি দল এসেছে, বৈঠক হয়েছে। কিন্তু সেই বৈঠকের পর অগ্রগতি কতটা? মোস্তাফিজকে নিয়ে যে পরিস্থিতির উদ্ভব, ভারতে খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে বাংলাদেশের যে অনড় অবস্থান, এই অচলাবস্থা কি আইসিসির প্রতিনিধি দলের বৈঠকের পর মিটবে?

সব মিলিয়ে দেশের ক্রিকেট এই মুহূর্তে যে অস্থির সময় পার করছে, এমনটা অতীতে কখনো হয়নি বলে মনে করেন অনেকেই। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের আপাতত কোনো রাস্তাও দেখা যাচ্ছে না বা বিসিবি সেই রাস্তা খুঁজে বের করতে পারছে না।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতে খেলার জন্য রাজি করাতে এবার বাংলাদেশে আসছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুজন কর্মকর্তা। এই সফরে আইসিসির এই শীর্ষ দুই কর্মকর্তা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ করবেন।

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল কাল বাফুফে ভবনে আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক দলের একটি চিঠির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে খেলতে যাওয়ার কোনো পরিবেশ নেই বাংলাদেশের জন্য। তিনি নির্দিষ্ট করেই বলেছেন, আইসিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক দল মোস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলেছ

যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলই বললেন এই কথা। আইসিসির নিরাপত্তা দলের পাঠানো চিঠিতে হতবাক বাংলাদেশ। তার সাফ কথা, ভারতে খেলার পরিবেশ নেই, এটা আর কীভাবে প্রমাণ করতে হবে? বাফুফে ভবন পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানত তাকে ক্রিকেট নিয়ে কথা বলতে হলো।

ভারতের সঙ্গে চলমান যে উত্তেজনা, সে বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা যদি সঠিকভাবে কূটনৈতিক আচরণ করতে পারি, তাহলে এটা কমে যাবে।”

ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, আইসিসি নাকি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু স্থানান্তরের অনুরোধ অগ্রাহ্যই করতে যাচ্ছে। মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বিসিবি।

বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ ভারত থেকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই আবেদন নাকি অগ্রাহ্যই হতে চলেছে।

২০২৬ সালের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির একটি সূত্রের বরাতে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়।

ভারতে ক্ষমতাসীন বিজেপির অন্যতম শীর্ষ নেতার পুত্র হিসেবেই ক্রিকেট প্রশাসনে এসেছেন জয় শাহ। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব হিসেবে কাজ করে তিনি আইসিসির চেয়ারম্যান হয়েছেন। মোস্তাফিজ-ইস্যুতে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যেতে অনড় বাংলাদেশ। এটি এখন বাংলাদেশের জাতীয় মর্যাদার বিষয়। জয় শাহ এখন কী সিদ্ধান্ত নেবেন?

বিষয়টি নিয়ে আজ রোববার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটা বৈঠকের কথা আছে জয় শাহর। কাল ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কোনো সমাধান বের করা খুবই কঠিন একটা কাজ।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের। কলকাতা ও মুম্বাই থেকে চারটি ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসির কাছে আবেদন জানিয়েছে বিসিবি। আইসিসি কি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কথা শুনবে? যদি না শোনে, তবে বাংলাদেশ কি বিশ্বকাপ বয়কট করতে যাচ্ছে?

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ অনড় রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বাংলাদেশের এই অবস্থান আইসিসিকে বোঝাতে সক্ষম হবেন বলেও আশা প্রকাশ করেছেন উপদেষ্টা।

আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিছু জানায়নি। তবে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর খবর, মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে ভারতের মাটি থেকে নিজেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে বিসিবির যে আবেদন, সেটিতে না করে দিয়েছে আইসিসি।

সবচেয়ে বড় কথা, মোস্তাফিজকে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ায় আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটিতে ‘অপরিপক্কতা’র ছাপ সুস্পষ্ট। ব্যাপারটি অনেকটাই পাড়ার ক্রিকেটে কোনো ঝগড়ার জের ধরে কাউকে খেলায় না নেওয়া মতো।

দুই দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হওয়ার পক্ষে মত দিয়ে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, “তো আমরা যেটা আশা করি যে দুই পক্ষ-প্রধানত ওখান থেকে যেখান থেকে এটা শুরু হয়েছে সেখানে শুভ বুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা খেলা চালিয়ে যেতে পারব। আমাদের অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যেতে পারব।”

ক্রিকেটে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন কোথায় গিয়ে ঠেকবে? মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়া কি বিজেপির ভোটের রাজনীতি? মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াটা যেসব দিক দিয়ে এসেছে, তার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড পুরোপুরি প্রস্তুত ছিল কি?

এটা তো অস্বীকারের কোনো উপায় নেই যে, ক্রিকেট চলেই ভারতের টাকায়। এ নিয়ে তাদের বড়াইয়ের অন্ত নেই। পরবর্তী সময়ে যেটা হবে, তা হলো, ভারত নানা দিক দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার চেষ্টা করবে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কথাই রাখল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দিয়ে দিল শাহরুখ খানের মালিকানাধীন ভারতীয় প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) গতবারের চ্যাম্পিয়ন। আজ শনিবার দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভারত-বাংলাদেশের কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।