
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর কারণে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও এখনো দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং সমুদ্রপথে মাইন পুঁতে রাখার চেষ্টায় লিপ্ত স্পিডবোটগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের একটি প্রাথমিক শান্তি চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চললেও ইউরেনিয়াম মজুতের মতো স্পর্শকাতর বিষয়টি তেহরান এখনই হাতছাড়া করতে নারাজ। এই সিনিয়র কর্মকর্তার বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট। বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির বৈঠকেই বিস্তারিত আলোচনা করা হবে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের শুরুতে ইসরায়েল ও আমেরিকা মিলে ইরানে হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের নিউক্লিয়ার সাইট, সামরিক ঘাঁটি ও উচ্চপদস্থ নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর চলছে এখন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি। নতুন করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবারও ইরানকে সরাসরি হুমকি দিয়েছেন।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৪৫ দিন বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে ইসরায়েল ও লেবানন। এই সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়েই শেষ হয়েছে ওয়াশিংটনে দুই দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের দুই দিনের সংলাপ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “এটি আমার পছন্দ হয়নি–পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।” মধ্যপ্রাচ্যে আসলেই কী ঘটছে বিস্তারিত শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের বিশ্লেষণে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে তিন দিনের যুদ্ধবিরতি হতে যাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ৯ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত এই বিরতি চলবে। গত শুক্রবার (৮ মে) ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কথা জানান।

দীর্ঘ তিন মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সংক্ষিপ্ত সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটছে। এই খসড়া প্রস্তাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের বিনিময়ে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হিমায়িত তহবিল ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইরানের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। ইরানের বন্দরগুলোতে চলমান মার্কিন নৌ-অবরোধের জবাবে এটিই তেহরানের প্রথম সামরিক পদক্ষেপ।

ইরানে হামলা কতটা নেতিবাচক হতে পারে তা হয়ত এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন করে না যুদ্ধে জড়াচ্ছেন, না ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ থেকে সরতে পারছেন। এরইমধ্যে বিপত্তি ঘটেছে, বাঙ্কার বাস্টার নিয়ে।

গালিবাফ বলেন, “আমরা ভালো করেই জানি, বর্তমানে বিরাজমান পরিস্থিতি বজায় থাকাটা আমেরিকার জন্য অসহনীয়, অথচ আমাদের কার্যক্রম তো কেবল শুরু হলো।”

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া ১৪ দফা প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে ওয়াশিংটন। তেহরান তা পর্যালোচনা করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

লেবাননসহ সব রণাঙ্গনে চলমান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়েছে ইরান। শুধু সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং সংকটের স্থায়ী সমাধানই তাদের মূল লক্ষ্য বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরান শুরুতে কূটনৈতিকভাবে কিছুটা বিচ্ছিন্ন থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও কার্যত একই ধরনের বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। রাশিয়ার অবস্থান এই বিচ্ছিন্নতা ভাঙতে সাহায্য করছে। তবে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত নাজুক এবং অনিশ্চিত, বিশেষ করে ইরানের জন্য।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর যুক্তরাষ্ট্র আবারও যুদ্ধে জড়াবে কি না, তা তার জানা নেই। তবে ইরান একটি চুক্তি করতে চায় বলেও দাবি করেন তিনি।

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রায় দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের পর পাকিস্তানে শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আলোচনা। মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে আসলেই কী ঘটছে বিস্তারিত শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের বিশ্লেষণে।

ইরানের সঙ্গে লড়তে গিয়ে আমেরিকা কি একা হয়ে পড়ছে? ইরানকে যতটা সহজ মনে করেছিল আমেরিকা-ইসরায়েল, ততটা সহজ হলো না, এখন কী করবে এই দুই মিত্র? ইরানের শর্তগুলোকে মেনে নেওয়া ছাড়া যু*দ্ধ কি থামবে? সোহরাব হাসানের সঞ্চালনায় চরচা সংলাপে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মো. নাঈম আশফ

হরমুজ প্রণালি আবার চালু করাসহ যুদ্ধের অবসান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরান এই প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবে পরমাণু আলোচনা পরবর্তী পর্যায়ের জন্য স্থগিত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য যখন এক চরম অনিশ্চয়তায়, ঠিক তখনই বিশ্বকে চমকে দিয়ে ঘোষণা এলো যুদ্ধবিরতির। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমকটা কোথায় জানেন? এই অসাধ্য সাধন করেছে কোনো পরাশক্তি নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার দেশ পাকিস্তান!

শান্তি আলোচনার জন্য পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিজের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে পাঠাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়লে হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক পরিকল্পনা তৈরি করছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা। একাধিক সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে কোনো প্রকার ‘সময়ের চাপ’ বা তাড়াহুড়ো নেই বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমটির উপস্থাপিকা মার্থা ম্যাককালামের সঙ্গে এক ফোনালাপে এমন মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।