
কমনসেন্স শেষ বিষয়টাতেই জোর দিতে বলে। তবে এতদিনের নাগরিক অভিজ্ঞতা আবার ভরসা রাখতে না করে। তবে কি হামে সন্তানহারা বাবা-মা’কে শুধুই ‘স্যরি’ বলে দেওয়া হবে? সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব বাবা-মা’কে বলা হবে, ‘টেক ইট ইজি?’

হাসপাতালটির চিকিৎসা ও তত্ত্বাবধান করবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগ। মূলত শিশুদের হাম ও ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্যই এটি প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে অক্সিজেন সাপোর্ট, নেবুলাইজেশন সুবিধা, পৃথক বেড ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

গত ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। ইতোমধ্যেই এই ৩০ উপজেলায় টিকাদান কর্মসূচি শেষ হয়েছে। টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়া উপজেলাগুলোতে হামের রোগীর সংখ্যা ইতোমধ্যেই কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

বরিশাল বিভাগে হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে।

হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের হাম শনাক্ত হয়েছিল। আর হামের উপসর্গ ছিল চারজনের।

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, এই ফিল্ড হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদেরও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুজনের হাম শনাক্ত হয়েছিল এবং হামের উপসর্গ ছিল ১৫ জনের।

সবচেয়ে বেশি হাম আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে। বিভাগটিতে ১৮ হাজার ৩৩৯ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৬৩৭ জনের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে।

ঢাকায় হাম শনাক্ত তিন শিশুই মারা গেছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে বরিশালে দুজন, ঢাকায় দুজন, রাজশাহীতে একজন ও সিলেটে একজন মারা গেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এখানে মোট সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৮৫ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৯৭ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় এই বিভাগে সর্বোচ্চ ৫৬২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।

আক্রান্তের দিক থেকে এগিয়ে ঢাকা বিভাগ, যেখানে মোট ৯ হাজার ২৭৪ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৬৫ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৭৫৮ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০৬ জনের নিশ্চিত হাম হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সন্দেহজনক হামে ১৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আজ সকাল পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে মোট ৩০১ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে সন্দেহজনক হামে মারা গেছেন আরও ১১৮ জন।

সারা দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে ২৪ ঘণ্টায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসময় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সবচেয়ে বেশি রোগী ঢাকা বিভাগে, যেখানে মোট ৩১৫ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে সংবাদসংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালে গত তিন মাসে মোট ১৩০ জন হাম আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসেই ভর্তি হয়েছে ৮৯ জন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, বিভাগের ভোলা জেলায় হামের টিকার সংকট রয়েছে। তবে বরিশালসহ বাকি পাঁচ জেলায় টিকার পর্যাপ্ত আছে।

এডিসসহ অন্যান্য কীটের উদ্ভব প্রায় চার কোটি বছর আগে। এই প্রায় চার কোটি বছর পৃথিবীতে যত প্রতিকূলতা এসেছে সেগুলোর সঙ্গে লড়াই করে আসছে কীটগুলো, জানালেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগনিয়ন্ত্রণ শাখার সাবেক পরিচালক অধ্যাপক বে-নজির আহমদ।

চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯২ হাজার ৭৮৪ জন। এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯০ হাজার ২১৯ জন।