
ভারতের মোট আমদানিতে রুশ তেলের অংশীদারিত্ব আগের থেকে ৫০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে আনুমানিক ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। এরপরও রাশিয়া ভারতের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী দেশ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে।

শিপিং ডেটা বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এবং কেপলার-এর তথ্যমতে, বাহামার পতাকাবাহী ‘ফুওয়াইরিত’ নামক একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার ১৮ মে হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে, যা আগামীকাল মঙ্গলবার পাকিস্তানে পণ্য খালাস করবে।

মার্কিন প্রশাসন যতটা আশাবাদী, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো সমঝোতা স্মারক আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নিয়ে ঠিক ততটাই সংশয় প্রকাশ করেছে। সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারকের এক বা দুটি ধারা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও তীব্র মতবিরোধ রয়ে গেছে বলে জানাচ্ছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নীতিগতভাবে একটি চুক্তিতে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি জানান, সম্ভাব্য এই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া হবে এবং তেহরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলতে বা ধ্বংস করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি ‘প্রায় চূড়ান্ত’ হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ চুক্তির ব্যাপারে অল্প সময়ের মধ্যে ঘোষণা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিশ্বজুড়ে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যখন আন্তর্জাতিক কূটনীতি, সামরিক হুমকি এবং তেহরান, ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের মধ্যকার আলোচনা একটি মাত্র সংখ্যার ওপর থমকে আছে–যা হলো ইরানের ৪৫০ কিলোগ্রাম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত।

দ্য ইকোনমিস্ট বলছে, যুদ্ধ শুরুর সময় বিশ্বে তেলের মজুত প্রায় দশ বছরের সর্বোচ্চ অবস্থায় ছিল। কিন্তু উপসাগরীয় সরবরাহের ঘাটতি পূরণে দেশগুলো মজুত থেকে তেল ব্যবহার করায় জুনের মধ্যে এই মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।

ইরানের এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।

ওমান উপসাগরের উত্তাল জলরাশিতে ভারতীয় জাহাজ ‘এমএসভি হাজি আলি’-র ওপর রহস্যময় ড্রোন হামলা! ১৪ জন ভারতীয় নাবিক অলৌকিকভাবে রক্ষা পেলেও তলিয়ে গেছে জাহাজটি। ২০২৬ সালের এই ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ কি এখন অনিরাপদ?

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না’— এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের চরম উত্তেজনার মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বেইজিং সফর বিশ্ব রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি সংকট নিরসন এবং হরমুজ প্রণালি সচল করতে ট্রাম্প চীনের সহযোগিতা চাইলেও, শি জিনপিংয়ের শক্ত অবস্থান ও বাণিজ্যিক স্বার্থ এই আলোচনাকে বেশ জটিল করে তুলেছে।

বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত প্রধান মনোযোগ ছিল তেল ও গ্যাস বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রভাবের দিকে। তবে জাতিসংঘ খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছে। কারণ আফ্রিকা ও এশিয়ার দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হামলার শিকার হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে, যা বিশ্ব বাজারে তেলের সরবরাহকে ব্যাহত করছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি মিশন চালু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল মার্কিন নৌবাহিনীর প্রহরায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার করা।

সামগ্রিকভাবে, এই করিডোরটি মধ্য এশীয় রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের সংযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা পাকিস্তানের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।

চীনের স্বার্থকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ না করেই অনেক বিনিয়োগ চীনা বিনিয়োগের পাশাপাশি চলমান রয়েছে। তবে আমেরিকা এক্ষেত্রে অনেক বেশি মারমুখী অবস্থান গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত আলেকজান্দ্রা স্টিভেনসন এবং মারফি ঝাও-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি মে মাসে ইরানে চলমান যুদ্ধ এবং তার প্রেক্ষাপটে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট এশীয় অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তারের এক অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হচ্ছে। তিনি হরমুজ প্রণালির অবরোধ ও তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি কেন্দ্র করে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে সমঝোতা চুক্তির চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় সময় বুধবার দলের সমর্থকদের সঙ্গে ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এসব কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি উচ্চপদস্থ পাকিস্তানি সূত্র জানিয়েছে, দুই দেশ এখন একটি এক পৃষ্ঠার সংক্ষিপ্ত খসড়া চুক্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

যুদ্ধের মধ্য দিয়ে ইরান তার শক্তিমত্তা প্রতিষ্ঠা করেছে? মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করল যুক্তরাষ্ট্র? হরমুজের প্রণালিতেই কি ডুবছে আমেরিকার সিংহাসন? যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোটা কি ভেঙে পড়েছে? শুধু ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র নয়, চীন-রাশিয়াও এই যুদ্ধে যুক্ত?

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ট্রাম্পের মতে, জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি থেকে বেরিয়ে যেতে সহায়তা করা একটি ‘মানবিক পদক্ষেপ’। এটি যুক্তরাষ্ট্র আর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানের পক্ষ থেকেও একটি সদয় আচরণ।

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের উত্তাপে এবার আক্রান্ত হলো একটি তেলের ট্যাংকার। একদিকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে বিশাল উদ্ধার অভিযানের ঘোষণা, অন্যদিকে অজ্ঞাত হামলার ঘটনায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে হরমুজ প্রণালীতে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কী পদক্ষেপ নেবে বিশ্বশক্তি?