
২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান যখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তারা দ্রুতই অল্প সংখ্যক অপরিশোধিত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম, ঠিক তখনই ইসরায়েল ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ শুরু করে।

ফ্লোরিডায় নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর গাজা, হামাস ও ইরানকে ঘিরে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থ হলে হামাসকে এবং পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠনে গেলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের

রুবিও জানান যে, টেকনোক্র্যাট গ্রুপে যোগ দেওয়ার জন্য ফিলিস্তিনিদের শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সম্প্রতি অগ্রগতি হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করলেও তিনি বলেন, ওয়াশিংটন খুব শিগগিরই এই শাসনকাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালককে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।

হামাস বলেছে, তারা গাজায় আটক থাকা সব ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত। ট্রাম্প তার ২০ দফা পরিকল্পনা মেনে নিতে হামাস ও ইসরায়েলকে বলছেন। ইসরায়েলকে ফিলিস্তিনিদের ভূখণ্ডে বোমা হামলা বন্ধ করারও দাবি জানান ট্রাম্প। প্রশ্ন একটিই, এ সব কিছুর পর কি গাজায় শান্তি ফিরবে?

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান জানালেন, গাজা যুদ্ধবিরতি পরবর্তী ধাপে না যাওয়া বিশ্বব্যাপী ব্যর্থতা হবে। তিনি বলেন, হামাস প্রশাসন ছাড়তে প্রস্তুত এবং নতুন বেসামরিক কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ গঠনের প্রয়োজন।

ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাস ইউরোপজুড়ে গোপন সেল তৈরি করে ‘অন-কমান্ড’ হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বলে অভিযোগ তুলেছে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ। আজ রবিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলীয় শহর সিডনে এক ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১৩ জন নিহত ও আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই মসজিদ পরিষ্কার করে সেখানে জুমার নামাজ আদায় করেছেন পশ্চিম তীরের গ্রামবাসীরা। ভাঙচুর, আগুন ও অবমাননাকর গ্রাফিতির পরও তারা ঐক্যের বার্তা দিতে জমায়েত হন। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই অঞ্চলে হামলার ঘটনা বাড়ছে।

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর পরিস্থিতি আবারও জটিল রূপ নিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ—ইসরায়েলি বাহিনী সরে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে হামাস। এ অবস্থায় গাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনাগুলোও পড়ছে বড় চ্যালেঞ্জে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ডা. মুনির আল-বুর্শ এবং খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের এক মুখপাত্র জানান, প্রত্যেকটি মরদেহের ব্যাগের ভেতরে পাওয়া নথিতে উল্লেখ ছিল যে মরদেহগুলো সেদে তেইমান কারাগার থেকে এসেছে।

আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করছে হামাস । এই দাবির স্বপক্ষে জোরালো প্রমাণ রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা

ট্রাম্প প্রশাসন একটি ভয়াবহ সংঘাত থামাতে সক্ষম হয়েছে। এখন চ্যালেঞ্জ হলো, চুক্তিটি যে প্রতিরোধের সম্মুখীন হতে পারে| তা সত্ত্বেও চুক্তিটিকে টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এর আন্তর্জাতিক সমর্থকদের উৎসাহিত করা।

‘ট্রাম্প ডিক্লারেশন ফর এনডিউরিং পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’ নামে কোনো দলিলের মধ্যে তেমন বিস্তারিত কিছুই নেই। এটি মাত্র ৪৬২ শব্দের এক বিবৃতি, যা মিশরে স্বাক্ষরিত হয়েছে কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতার মধ্যে। তবে সেখানে ইসরায়েল বা হামাসের কোনো প্রতিনিধিই ছিল না।

জিম্মিদের মধ্যে আছেন: এলকানা বোহবট, আভিনাতান অর, ইয়োসেফ-চায়িম ওহানা, ইভিয়াটার ডেভিড, রোম ব্রাসলাবস্কি, সেগেভ কালফন, ম্যাক্সিম হারকিন, বার কুপারস্টেইন, এইটান হর্ন, আরিয়েল কুনিও, ডেভিড কুনিও, মাতান জাঙ্গাউকার এবং নিম্রোড কোহেন। ধারণা করা হচ্ছে, জীবিত সব জিম্মিকেই এখন মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

হিজবুল্লাহর মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের অস্তিত্বের বিরোধিতা করা এবং ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার করা। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলসহ অনেক দেশ হিজবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে দেখে।

গাজায় শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সাত ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামীগোষ্ঠী হামাস। আজ সোমবার রেড ক্রসের তত্ত্বাবধানে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

নুসেইরাত শিবির থেকে ফেরা আহমেদ আবু শানাব বলেন, “দক্ষিণ থেকে উত্তরে ফেরার যাত্রা ছিল খুবই কঠিন। আমরা অনেক কষ্ট পেয়েছি এবং পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না। আক্ষরিক অর্থে ঘুমাতে পারিনি।”

আগামী সপ্তাহে মিশরের কায়রোতে ইসরায়েল এবং হামাসের প্রতিনিধিদলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির আলোচনা শুরু হবে।

হামাস একইসঙ্গে গাজার শাসনব্যবস্থা পরিচালনা করে এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলন হিসেবে কাজ করে। এই দ্বৈত পরিচয় তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে, কারণ তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সামরিক কর্মকাণ্ডকে আলাদা করা কঠিন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কোনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে নিয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই জায়গা আমাদের’।

হামাস নেতাদের টার্গেট করে কাতারে হামলা ইসরায়েল কীভাবে করতে পারে? দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি আছে। তবে কি যুক্তরাষ্ট্র জানত এই হামলার কথা? নিজেদের মাটিতে হামলার পরেও কাতার সেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। অন্য আরব রাষ্ট্রগুলোর নীরবতাও রহস্যজনক। বিষয়টি নিয়ে নাইর ইকবালের সঞ্চালনায় আলোচনায় সেলিম খান।