
ভারত ও পাকিস্তানে গরম যখন মৃত্যুসম
এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া গণবিস্ফোরণের জেরে আজ এক নতুন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার পতন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশ পুনর্গঠনের স্বপ্ন দেখা দিলেও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড এবং সংস্কারের ধীরগতি নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করছে।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়ে এক এক্সপ্লেইনারে এমন কথাই বলছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। গত ১২ ডিসেম্বর গুলির ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি মারা যাওয়ার পর ফের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলার জেরে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আল জাজিরা।
আল জাজিরা বলছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর দমন-পীড়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আন্দোলনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ প্রাণ হারায় এবং হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষই শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এর মাধ্যমে তার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। পরে ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে, যাদের মূল লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং তরুণ নেতা শরীফ ওসমান হাদি সম্প্রতি আততায়ীর গুলিত নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ড দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়েছে। একজন সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে হাদির মৃত্যু তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দিয়েছে। আন্দোলনকারীরা মনে করছেন, এই হত্যাকাণ্ড বিপ্লবের অর্জনকে নস্যাৎ করার একটি গভীর ষড়যন্ত্র।
এদিকে, ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দিয়ে প্রথমে কারওয়ান বাজারের প্রথম আলো কার্যালয়ে এবং পরে কাছের ডেইলি স্টারের কার্যালয়ে হামলা চালায় একদল। শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে তারা গতকাল রাত ১২টার দিকে প্রথমে হামলা চালায় প্রথম আলো কার্যালয়ে।
প্রথম আলোর চারতলা ভবনের নিচতলার শার্টার ভেঙে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান প্রথমার কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ তলার প্রথম আলোর হিসাব বিভাগ, বিজ্ঞাপন ও বিপণন বিভাগ এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকির কার্যালয়ে লুটপাটের পর আগুন দেওয়া হয়।
এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে প্রথম আলোতে হামলার পর তারা দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে যান। প্রথমে সড়ক থেকে ইংরেজি পত্রিকাটির প্রধান কার্যালয়ে ঢিল ছোড়া হয়। এরপর ভবনের গেট ভেঙে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর চালায় তারা।
ফেব্রুয়ারিতে নির্ধারিত সংসদীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের দাবি, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি—এই দুইয়ের চাপে রয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংস্কারে বিলম্ব এবং তরুণ নেতাদের ওপর আক্রমণ নির্বাচনের পরিবেশকে ঘোলাটে করে তুলছে।
বাংলাদেশ বর্তমানে একটি রূপান্তরকালীন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জুলাইয়ের বিপ্লব যে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, শরিফ ওসমান হাদির মতো নেতাদের হত্যাকাণ্ড এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতা সেই স্বপ্নকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। ফেব্রুয়ারির নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন ইউনূস সরকারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

এই তীব্র তাপ ও আর্দ্রতার ঝুঁকি সমাজের সব স্তরের মানুষ সমানভাবে ভোগ করে না, বরং এই বিপর্যয় অত্যন্ত অসমভাবে আঘাত হানে।

বিশ্বকাপ জেতা দল শিরোপা ধরে রাখতে পারে না ৬৪ বছর ধরে। এবার আর্জেন্টিনা সব শঙ্কা পেছনে ফেলে সেই ইতিহাস বদলাতে পারবে কিনা, সেই প্রশ্ন সময়ের হাতেই!

একসময় কোরবানির ঈদের দিন বিকেলের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন জেলা শহর, হাট-বাজার ও মহল্লায় কাঁচা চামড়ার নগদ বেচাকেনা শেষ হয়ে যেত। মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা কিংবা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানতেন—চামড়া হাতে মানেই নগদ টাকা। দাম নিয়ে কিছু দর-কষাকষি থাকলেও বাজারে ক্রেতা থাকত, নগদ অর্থ থাকত, এবং দ্রুত চামড়া সংগ্রহ করে আড়

প্রধানত শিয়া মুসলমানরা ‘ঈদুল গাদির’ পালন করে। তাদের কাছে অন্য দুই ঈদের চেয়েও এই ঈদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আশুরার পরই এই দিনটির অবস্থান। ঈদুল আজহা তো পালিত হয় জিলহজ মাসের দশম দিনে, ঈদুল গাদির পালিত হয় একই মাসে, ১৮তম দিনে। ঈদুল গাদিরে অবশ্য পশু কোরবানি দেওয়া হয় না। মূলত বিশেষ নামাজ আদায় ও রোজা রাখা হয়।