
জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে
রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিশেষত প্রগতিশীল অংশকে আরও কোণঠাসা এবং বাকি সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অভ্যৃত্থান সংঘটন করা হয়।

২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনের পর আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনের ফলাফল দেশটির সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে। ১০ কোটি বেশি ভোটারের এই নির্বাচন ২০২৬ সালের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া হতে চলেছে। নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এটিকে কর্মকর্তারা শতাব্দীর সেরা নির্বাচন বলে অভিহিত করছেন।
নির্বাচনের আগে, চলাকালীন এবং পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কেমন আচরণ করা হয়, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে কাজ করবে। একটি অবাধ ও স্বাধীন গণমাধ্যম জনগণের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংবাদপত্রের ওপর হামলার উদ্বেগজনক বৃদ্ধি ভিন্ন কিছুরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের ওপর রক্তক্ষয়ী দমনের পর হাসিনা দেশত্যাগ করেন। এর তিন দিন পর ইউনূস একটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং স্থিতিশীলতা ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এর পরিবর্তে, তিনি অনেকটা হাসিনা সরকারের মতোই সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দমনের নীতিই অব্যাহত রেখেছেন।

ইউনূসের শাসনামলে শত শত সাংবাদিককে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে কেবল হাসিনা সরকারকে সমর্থনের সন্দেহে। সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক ও অনলাইন হামলাও বাড়ছে, যার প্রধান কারণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের তদন্ত এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করার ক্ষেত্রে সরকারের অনীহা।
নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, হামলার ধরন আরও ভয়াবহ হচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে, ‘দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ’-এর স্থানীয় সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে একটি গ্যাং হামলার ভিডিও করার অপরাধে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। কয়েক সপ্তাহ পরে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে একটি গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেওয়ার পর সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার ও অভিযুক্ত করা হয়।
গত ডিসেম্বরে, বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি সংবাদপত্র ‘ডেইলি স্টার’ এবং ‘প্রথম আলো’র ঢাকা অফিসে একটি সহিংস জনতা ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে, যার ফলে সাংবাদিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেতরে আটকা পড়ে থাকেন। এই ঘটনার পর আয়োজিত এক সম্মেলনে দেশের শীর্ষ সম্পাদকরা অন্তর্বর্তী সরকারকে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় রাখার জন্য দায়ী করেন।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত আইরিন খান সতর্ক করেছেন যে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচার করতে সরকারের ব্যর্থতা ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটের আগে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর একটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের সময় সাংবাদিকরা অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করেন। তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং অনিয়মগুলো নথিভুক্ত করেন। তারা একটি সচেতন নাগরিক সমাজ গঠনেও অবদান রাখেন। অনলাইনে যখন এআই-চালিত অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ছে, তখন বাংলাদেশি ভোটাররা তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাংবাদিকদের নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করবেন।
তবুও, জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, নির্বাচনের সময়টি সাংবাদিকদের জন্য উচ্চ ঝুঁকির সময়। আগামী সপ্তাহে বিশ্ব কেবল বাংলাদেশের নির্বাচনের ফলাফলের দিকেই নয়, বরং নির্বাচনটি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে সেদিকেও নজর রাখবে।
‘ডিজিটালি রাইট’-এর সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি ১০ জন সাংবাদিকের মধ্যে ৯ জনই ভয় পাচ্ছেন যে আগামী সপ্তাহের নির্বাচন কভার করতে গিয়ে তারা শারীরিক হামলার শিকার হতে পারেন। একটি স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার মতে, অন্তত ১৬ জন সাংবাদিক এরইমধ্যে শারীরিক হামলা বা পেশাগত কাজে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।
ইউনূস যদি সত্যিই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন, তবে তাকে অবশ্যই বাংলাদেশের স্বাধীন সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। প্রধান রাজনৈতিক অনুষ্ঠান, অস্থিরতা এবং সংঘাতের সময় সাংবাদিকদের সাথে করা আচরণ প্রায়ই একটি দেশ কোন দিকে যাচ্ছে তার নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত দেয়। সাধারণত যেসব দেশে গণতান্ত্রিক পশ্চাদপসরণ ঘটে, সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর হামলা বৃহত্তর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পূর্বসূরী হিসেবে কাজ করে।
একটি স্বাধীন সংবাদমাধ্যম সব শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিত্তি এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কবচ। অন্যান্য স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের সাথে মিলে গণমাধ্যম চেক-অ্যান্ড-ব্যালেন্স ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ হিসেবে কাজ করে, যা কার্যকর গণতন্ত্র ও মুক্ত সমাজের প্রাণকেন্দ্র।
আগামী সপ্তাহে বিদায়ী সরকার এবং নতুন সরকার উভয়েরই সুযোগ থাকবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে একটি অবাধ ও স্বাধীন সংবাদপত্রের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শনের। তারা এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে নতুন পথ প্রশস্ত করবে কিনা, তার ওপর বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে।
লেখক: আমেরিকাভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল প্রেস ইনস্টিটিউটের গ্লোবাল অ্যাডভোকেসি কর্মকর্তা

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিশেষত প্রগতিশীল অংশকে আরও কোণঠাসা এবং বাকি সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অভ্যৃত্থান সংঘটন করা হয়।

এখানে ধর্ম, ভাষা ও জাতিসত্তার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক ভূখণ্ডকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হয়েছে। শহীদ জিয়ার এই সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী কথাগুলোই আজ যেন আমাদের পথ চলার প্রেরণার উৎস।

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা সংহতকরণের এই পথ মৃসণ ছিল না। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের (ক্যু) চেষ্টা হয়।

যে মানুষ বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে ভারতে গেছেন, ভারত সরকার না হয় তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করল। কিন্তু যারা ভারতে জন্ম নিয়েছেন, তাদের কোন আইনে তারা ফেরত পাঠাবে?