
জিয়া হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে
রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিশেষত প্রগতিশীল অংশকে আরও কোণঠাসা এবং বাকি সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অভ্যৃত্থান সংঘটন করা হয়।

বাংলাদেশের নতুন সরকার সংসদে এমন এক তামাকবিরোধী আইন পাস করেছে। এই আইনে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক, ডিজিটাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিনোদন প্লাটফর্ম ও বিক্রয় কেন্দ্রগুলোতে তামাকজাত পণ্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এছাড়াও এই ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশে ২০২৫ তামাকজাত পণ্যের ব্র্যান্ড নাম, লোগো বা ট্রেডমার্ক ব্যবহার করে করপোরেট সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি ইনিশিয়েটিভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, এখন থেকে সিগারেটের প্যাকেটের উপরিভাগের অন্তত ৭৫ শতাংশ জুড়ে সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবাণী থাকতে হবে। পাশাপাশি প্যাকেটে তামাক ছাড়ার জন্য জাতীয় সহায়তা কেন্দ্রের (কুইট লাইন) নম্বর অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
আইনটিতে পাবলিক প্লেসে ধূমপানমুক্ত এলাকার পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া স্কুল, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং খেলার মাঠের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত পণ্য বিক্রি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যে আইনগুলো পাস করা শুরু করে সেগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কাছ থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করে।

বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার বেশ উদ্বেগজনক। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ পুরুষ ধূমপান করেন, যা সংখ্যায় ২ কোটির বেশি।
টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্যমতে, ২০২৩ সালে বাংলাদেশে পুরুষদের মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ এবং নারীদের মৃত্যুর ১০ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল তামাক। সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষ তামাকজনিত কারণে প্রাণ হারান।
স্বাস্থ্যখাতের ওপর এই বিশাল বোঝার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও নেহাত কম নয়। বাংলাদেশে ধূমপানজনিত অসুস্থতার কারণে বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ আনুমানিক ৭৩০.৬৩ বিলিয়ন টাকা।
ভেপ বা ই-সিগারেট থাকবে আওতামুক্ত
নতুন এই আইনের আওতায় ভেপ (ই-সিগারেট), হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম এবং নিকোটিন পাউচের মতো আধুনিক তামাক ও নিকোটিন পণ্যগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। টোব্যাকো অ্যাটলাসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত পণ্য ব্যবহার করা সত্ত্বেও এই পণ্যগুলো আইনের বাইরে রয়ে গেছে।

এই আইনকে স্বাগত জানিয়ে ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গান কুয়ান এর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এটি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনতে সহায়ক হবে। সরকারি সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং জনস্বাস্থ্য অংশীদারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। পাশাপাশি তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো নিয়ে জনসচেতনতা চালিয়ে যেতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো যাতে এই আইনকে বাধাগ্রস্ত বা বিলম্বিত করতে না পারে, সে বিষয়ে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের লক্ষ্য করে বাজারজাত করা নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্যের নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।”
ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো-ফ্রি কিডস-এর নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট স্মিতা বড়ুয়া বলেন, এই নতুন পদক্ষেপগুলো তামাক ব্যবহারের হার কমিয়ে আনবে, জীবন বাঁচাবে এবং শিশুদের তামাকের নেশা থেকে রক্ষা করবে। তিনি আরও বলেন, “তামাক কোম্পানিগুলো জানে যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আইন ধূমপান বন্ধে এবং তরুণদের ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই তারা এ ধরনের জীবন রক্ষাকারী আইনকে বাধাগ্রস্ত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায়। বিশ্বের বড় তামাক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়েই এই পদক্ষেপগুলোকে রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি।”
লেখক: কেরি কালিনান জেনেভা-ভিত্তিক স্বতন্ত্র সংবাদ সংস্থা ‘হেলথ পলিসি ওয়াচ’-এর ডেপুটি এডিটর।
(লেখাটি হেলথ পলিসি ওয়াচ থেকে নেওয়া)

রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মূলত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিশেষত প্রগতিশীল অংশকে আরও কোণঠাসা এবং বাকি সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করতেই পরিকল্পিতভাবে এই অভ্যৃত্থান সংঘটন করা হয়।

এখানে ধর্ম, ভাষা ও জাতিসত্তার পাশাপাশি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক ভূখণ্ডকে সবচেয়ে বড় করে দেখা হয়েছে। শহীদ জিয়ার এই সংক্ষিপ্ত অথচ শক্তিশালী কথাগুলোই আজ যেন আমাদের পথ চলার প্রেরণার উৎস।

জিয়াউর রহমানের ক্ষমতা সংহতকরণের এই পথ মৃসণ ছিল না। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ অক্টোবর থেকে তার বিরুদ্ধে একের পর এক সামরিক অভ্যুত্থানের (ক্যু) চেষ্টা হয়।

যে মানুষ বৈধ কাগজপত্র না থাকা সত্ত্বেও জীবিকার তাগিদে ভারতে গেছেন, ভারত সরকার না হয় তাদের দায়িত্ব অস্বীকার করল। কিন্তু যারা ভারতে জন্ম নিয়েছেন, তাদের কোন আইনে তারা ফেরত পাঠাবে?