
দ্রুত বদলাচ্ছে বাংলাদেশের আর্থিক খাত। স্মার্টফোন, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS), ডিজিটাল আইডেন্টিটি এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের ফলে ‘ডিজিটাল ঋণ’ বা ‘ই-লোন’ নতুন বাস্তবতা হয়ে উঠছে। বিশ্বের অনেক দেশেই ছোট অঙ্কের অনেক ঋণই আর ব্যাংকের কাউন্টারে নয়, বরং মোবাইল স্ক্রিনে অনুমোদন হচ্ছে।

বাংলাদেশের বাজেট পরিক্রমা দেশ গঠনের এক দীর্ঘ ইতিহাস- ৮ কোটি টাকার আপৎকালীন শুরু থেকে যা আজ প্রায় ৮ লাখ কোটিতে পৌঁছেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতির বিদেশি ঋণনির্ভরতা কাটিয়ে নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির লড়াই এবং প্রতিটি সরকারের আমলে বিদ্যমান বিশাল ঘাটতি বাজেটের চ্যালেঞ্জগুলোই এখানে মুখ্য।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও শিল্প খাতে অর্থায়ন সহজ করতে বড় ঋণসংক্রান্ত কিছু নিয়ম শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করেছে।

ডিজিটাল ঋণ বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় বাঁকবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এটি যেমন ব্যাংকিং সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আর্থিক ব্যবস্থার আওতায় আনতে পারে, তেমনি অনিয়ন্ত্রিত হলে নতুন ধরনের আর্থিক সংকটও তৈরি করতে পারে।

এসব গাড়ি কিনতে একজন গ্রাহক ব্যাংক থেকে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন, যা আগে ছিল ৬০ লাখ টাকা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

তবে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মুনাফা কমেছে ৫৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। রাজস্ব বাড়লেও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রভাবেই মুনাফা কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছে কোম্পানি।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশিক ঋণের স্থিতি ৭৮,০৬৭ দশমিক ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ।

১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে কোনো জামানতের প্রয়োজন না থাকায় নতুন ও ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য এটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এতে করে যারা সম্পদের অভাবে ব্যাংক ঋণ নিতে পারেন না, তারাও এখন সহজে মূলধন সংগ্রহ করতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের ঋণ কার্যক্রমের মুলতুবি থাকা কিস্তি ছাড়ের বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানায়নি।

উপদেষ্টা বলেন, “আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পেয়েছি। আমাদের লক্ষ্য বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং সিএমএসএমই খাতের বিকাশ ঘটানো। আমরা চাই ডিসিসিআই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের চ্যাম্পিয়ন হোক।”

অর্থমন্ত্রী বলেন, যেসব ব্যাংকে শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশের বেশি, সেসব ব্যাংকের সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিমের সঙ্গে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আলোচনা করা হচ্ছে। কোন কোন বাধায় ঋণ আদায় ব্যাহত হচ্ছে, তা চিহ্নিত করে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে কর্মপরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি দপ্তরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস ব্যবহারও ৩০ শতাংশ কমানো হবে। একই সঙ্গে সরকারি খাতে সব ধরনের গাড়ি, জলযান, আকাশযান ও কম্পিউটার কেনা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী জনগণকে গুজব ও প্যানিক বায়িং থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

দুটো প্রলয়ের সময় লক্ষ্য করা গেছে, শেয়ারের মূল্য যখন যুক্তিহীনভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে, তখন একদল বিজ্ঞজন মূল্যবৃদ্ধিকে নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ না দিয়ে সরকার বা ব্যাংকগুলোকে বেশি ঋণ প্রদানের আহ্বান জানান। এতে অনেক সরল বিনিয়োগকারী সর্বস্বান্ত হন।

প্রান্তিক গ্রাহকদের জন্য অ্যাপভিত্তিক ঋণসেবা ‘এমডিবি ডিজিটাল ন্যানো লোন’ চালু করার কথা জানিয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক (এমডিবি)।

প্রাইম ব্যাংকের পক্ষ থেকে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ব্রাঞ্চ ডিস্ট্রিবিউশন মামুর আহমেদ। উইকন প্রোপার্টিসের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন চিফ বিজনেস অফিসার রেজাউল হক লিমন।

তিনি বলেন, ”অন্তর্বর্তী সরকার অর্থনীতিকে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে এবং এ সময়ে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়েছে।”

গেটস ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের কাছে সাফল্য ডিজিটাল লোন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং তাদের মতামত গ্রহণ ছিল প্রধান উদ্দেশ্য।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের পরিচালক মীর সাজেদ-উল-বাসের, এফসিএ; ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. শামসুল আরেফিন; অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. খুরশেদ আলমসহ ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও অন্যান্য কর্মকর্তারা।

চরচার সম্পাদক সোহরাব হাসানের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আজিজ।

২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কায় কী ঘটেছিল জানেন? তারা চীনের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিল। পরে ঋণ শোধ করতে না পেরে দেশটি তাদের হাম্বানটোটা বন্দর ৯৯ বছরের জন্য চীনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়েছিল। একেই বলে ‘ড্যাট-ট্র্যাপ ডিপ্লোমেসি’ চক্করে পড়া।

চীনের পাশাপাশি রাশিয়া, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোও বিভিন্ন সময়ে এই কৌশল ব্যবহার করে। বিশ্বের বহু দেশ এই জালে জড়িয়ে আছে। ঋণ শোধ করতে না পারার ক্ষতিপূরণ হিসেবে জলাঞ্জলি দিতে হয় নিজেদের আত্মমর্যাদা, সম্পদ ও সার্বভৌমত্ব।