
সিবিএসের প্রতিবেদন
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরান ড্রোন হামলা চালাতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে একটি মেমো পাঠিয়েছে সংস্থাটি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে হামলার খবর সামনে আসছে, যার ফলে তৈরি হয়েছে চরম উত্তেজনা। এই ঘটনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আলোচনায় সব ব্যাপারে ছাড় দেওয়ার পরেও হামলা হওয়ায় ইরান আমেরিকার সাথে কথা বলতে রাজি নয়। বরং প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির হ*ত্যার পর ইরান আগের চেয়েও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। শুনুন অধ্যাপক বদরুল আলম খানের আলোচনা।

বিবিসির বিশ্লেষণ
গতির দিক থেকে খুব বেশি দ্রুত না হলেও বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এই ড্রোনগুলোর সরু গঠন এবং নিচু উচ্চতায় উড়তে পারার ক্ষমতার কারণে এগুলোকে রাডার ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্তের আগাম সতর্কতা ব্যবস্থায় ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগাম হামলার পর সংঘাত দ্রুত জটিল আকার নিয়েছে। ইরানের সস্তা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কৌশল পশ্চিমা শক্তির ব্যয় ও অস্ত্র মজুদের ওপর বড় চাপ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে এর সামরিক ও রাজনৈতিক মূল্য দুই পক্ষের জন্যই ভারী হয়ে উঠতে পারে।

হিজবুল্লাহর দাবি অনুযায়ী, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে (দাহিয়েহ) ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই বিশেষ অপারেশন চালানো হয়েছে।

দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পার্কিং এলাকায় সীমিত আগুন লাগলেও কেউ হতাহত হয়নি। সব কনস্যুলেট কর্মী নিরাপদে আছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সরাসরি সামরিক সংঘাত চতুর্থ দিনে প্রবেশ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, পাল্টা হামলায় উত্তাল গোটা মধ্যপ্রাচ্য। কিন্তু এই যুদ্ধ কত দিন চালিয়ে নিতে পারবে ইরান?

২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করে ইরান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে রিয়াদ, মানামা, দুবাই, দোহা ও কুয়েতে ঘটে যাওয়া পাঁচটি চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে।

ড্রোন হামলার জেরে কাতার এনার্জি তাদের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন স্থগিত করার পর ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জোগান স্বাভাবিক রাখতে শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে দেশটির জ্বালানি কোম্পানিগুলো।

চতুর্থ দিনে গড়ানো ইসরায়েল-আমেরিকার যৌথ অভিযানে লেবাননেও হামলা চালানো হয়েছে, পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন কমান্ডার নিহত হওয়ার পর, মিত্র রাষ্ট্রগুলোতে পশ্চিমা সামরিক ঘাঁটি ও বেসামরিক ভবন লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হয়। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়া থেকে শুরু করে ড্রোন হামলা এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত বেশ কিছু নাটকীয় ঘটনার জন্ম দিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, তারা এই প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে, সেসব দেশও ইরানের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্পনগরীর জ্বালানি স্থাপনায় দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাস লাফান শিল্পনগরীর জ্বালানি স্থাপনায় দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।