
বাংলাদেশ থেকে আসা তথাকথিত অবৈধ মুসলিম অভিবাসীদের বের করে দেওয়া বিজেপির অন্যতম লক্ষ্য। জোরপূর্বক প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি পশ্চিমবঙ্গে দলটির নির্বাচনী জয়ে বড় ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। তবে এই ইস্যুতে নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে কোনো ঐকমত্য না থাকায়, বিষয়টি ঢাকা সহজভাবে নেবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষণটি এটিই স্পষ্ট করে যে, ২০২৬ সালের এই মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

ভোট পরবর্তী হিংসায় মধ্যমগ্রামে বিজেপি নেতা চন্দ্রনাথ রথ খুন হওয়ায় রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় বিজেপি সরাসরি শাসকদলের দিকে আঙুল তুললেও তৃণমূল সেই অভিযোগ অস্বীকার করে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। পুলিশি ধরপাকড় চললেও নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক প্রাণহানি এবং সংঘাত এখন চরমে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির নানা দিক নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক তরুণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির নানা দিক নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক তরুণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির নানা দিক নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক তরুণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়, পদত্যাগ করবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তাহলে কী হবে? ওদিকে বিজেপি বলছে, পদত্যাগ না করতে চাওয়া ‘হাস্যকর’।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি ‘কংগ্রেস মুক্ত’ ভারতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে এসে মনে হচ্ছে শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপি-বিরোধী মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন মোদি ও তার রাজনৈতিক সহযোগীরা।

মমতা কি পারবেন আবার সেই আগের মতো রাজপথের লড়াকু নেত্রী হয়ে ফিরে আসতে? নাকি তিনি পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক স্মৃতি হয়ে থেকে যাবেন?

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মুসলমান ভোট বিভক্ত হয়ে পড়া। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচ্ছত্রভাবেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলমানদের তৃণমূলের ভোটব্যাংক মনে করা হলেও সেখানে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ মে (২০২৬) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান। ভিডিওটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মমতা বলেন, “জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমাকে গিয়ে রেজিগনেশনটা দিতে হবে, নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।”

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে হারিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ে ‘ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বাধাগ্রস্ত হবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মুসলমান ভোট বিভক্ত হয়ে পড়া। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচ্ছত্রভাবেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলমানদের তৃণমূলের ভোটব্যাংক মনে করা হলেও সেখানে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্কসবাদী) সংক্ষেপে সিপিআই(এম) দাবি করেছে, পশ্চিমবঙ্গের জনগণ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের পতন চেয়েছেন। এই ক্ষোভের ফায়দা তুলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)।

২০২১ সালের পরাজয়ের পর সবাই ভেবেছিল বিজেপি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সময়ে শুভেন্দু অধিকারী শক্ত হাতে হাল ধরেন। ভোট পরবর্তী সমস্যা মোকাবিলা করেন এবং দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়ান।

প্রায় ১৯৩টি আসনে এগিয়ে থেকে ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করেছে গেরুয়া শিবির। দলীয় অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রা ১৮৫-এর গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে তারা। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) সরিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ কী?

মমতা বলেন, “মন খারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হলো। এটা ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ।”

এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে ১৯০ আসনে, তৃণমূল ৯৯ আসনে।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে। তৃণমূল কংগ্রস ও বিজেপি– দু পক্ষই মনে করছে, এই বিপুলসংখ্যক ভোট তাদেরই সাহায্য করবে। এবারের নির্বাচনে ববিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম কাটা গেছে তালিকা থেকে। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ওপর সংখ্যালঘু–সংখ্যাগুরু সবাই ক্ষুব্ধ।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক ময়দান। আজ ২৩ এপ্রিল তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। পাথরবৃষ্টি, লাঠিচার্জ এবং গাড়ি ভাঙচুরের এই ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এমনিতেই ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর নামে বাংলাদেশি খোঁজার প্রক্রিয়ায় মানুষকে গ্রাস করেছে অভূতপূর্ব আতঙ্ক। চারিদিকেই তৈরি হয়েছে ভয়ের মহল। সেই ভয়ের পরিবেশকেই আর কঠিন করে তুলেছে আধা সেনার অতি-সক্রিয়তা।