
বিশ্লেষণটি এটিই স্পষ্ট করে যে, ২০২৬ সালের এই মে মাসে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক পালাবদল নয়, বরং এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির নানা দিক নিয়ে চরচার সঙ্গে কথা বলেছেন সাংবাদিক তরুণ চক্রবর্তীর বিশ্লেষণে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন মোড়, পদত্যাগ করবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখন তাহলে কী হবে? ওদিকে বিজেপি বলছে, পদত্যাগ না করতে চাওয়া ‘হাস্যকর’।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে নরেন্দ্র মোদি ‘কংগ্রেস মুক্ত’ ভারতের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০২৬ সালে এসে মনে হচ্ছে শুধু কংগ্রেস নয়, বিজেপি-বিরোধী মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছেন মোদি ও তার রাজনৈতিক সহযোগীরা।

মমতা কি পারবেন আবার সেই আগের মতো রাজপথের লড়াকু নেত্রী হয়ে ফিরে আসতে? নাকি তিনি পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থার এক স্মৃতি হয়ে থেকে যাবেন?

দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পটপরিবর্তন হতে চলেছে। সরকারি কর্মচারীদের ডিএ অসন্তোষ, নারী ভোটারদের সমর্থন এবং আরজি কর-কাণ্ডের মতো বিষয়গুলো শাসকদলের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মুসলমান ভোট বিভক্ত হয়ে পড়া। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচ্ছত্রভাবেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলমানদের তৃণমূলের ভোটব্যাংক মনে করা হলেও সেখানে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৫ মে (২০২৬) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ কথা জানান। ভিডিওটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

মমতা বলেন, “জোর করে দখল করে যদি কেউ মনে করে যে আমাকে গিয়ে রেজিগনেশনটা দিতে হবে, নো, নট দ্যাট। আমি এখনও বলতে চাই, আমরা নির্বাচনে হারিনি। জোর করে আমাদের হারানোর জন্য ওদের চেষ্টা এটা।”

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ না করেও যেসব তরুণী দূর থেকে চিত্রগুলোর মাধ্যমে রাজনীতিকে দেখছেন, তাদের জন্য এই মুহূর্তগুলো একটি নীরব শিক্ষা বহন করে। তারা কেবল নির্বাচনের ফলাফল দেখছেন না, বরং তারা দেখছেন কত দ্রুত কর্তৃত্বকে ব্যর্থতা হিসেবে সাজানো যায়, কত সহজে আত্মবিশ্বাসকে বাড়াবাড়ি হিসেবে গণ্য করা হয় এবং কীভাবে অ

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মুসলমান ভোট বিভক্ত হয়ে পড়া। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচ্ছত্রভাবেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলমানদের তৃণমূলের ভোটব্যাংক মনে করা হলেও সেখানে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে মুসলমান ভোট বিভক্ত হয়ে পড়া। ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানরা একচ্ছত্রভাবেই মমতা বন্দোপাধ্যায়ের পেছনে দাঁড়িয়েছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও মুসলমানদের তৃণমূলের ভোটব্যাংক মনে করা হলেও সেখানে বড় ধরনের বিভক্তি দেখা দিয়েছে।

হেরে গেলেন তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভবানীপুরে প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৫ হাজার ১০৫ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার অনলাইনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রায় ১৯৩টি আসনে এগিয়ে থেকে ‘ম্যাজিক ফিগার’ পার করেছে গেরুয়া শিবির। দলীয় অভ্যন্তরীণ লক্ষ্যমাত্রা ১৮৫-এর গণ্ডিও ছাড়িয়ে গেছে তারা। ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেসকে (টিএমসি) সরিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের নেপথ্যের কারণ কী?

মমতা বলেন, “মন খারাপ করার কারণ নেই। আমি বলেছিলাম, সূর্যাস্তের পরে আপনারা জিতবেন। তিন-চার রাউন্ড সবে কাউন্ট হলো। এটা ১৪-১৮ রাউন্ড কাউন্ট হয়। তখন আপনারা জিতবেন। ওয়েট অ্যান্ড সি, ওয়াচ।”

এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এগিয়ে ১৯০ আসনে, তৃণমূল ৯৯ আসনে।

আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক প্রচারের অভিযোগ উঠেছে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে।

পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন একেবারে দরজায় কড়া নাড়ছে। এটি রাজ্যের ১৭তম বিধানসভা নির্বাচন, যেখানে মোট ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ২০২১ সালের মে মাসে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের জন্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ সময়ে তিনি তাকে ‘আমার তারেক ভাই’ বলে সম্বোধন করেন।

জন্মলগ্ন থেকেই ভারতে যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো বেশ কিছু নীতি ও আদর্শগত স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে। সেই আলোকেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে সংবিধান প্রণেতারা রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব ও ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেন সংবিধানে।

বিজেপির এই সর্বগ্রাসী প্রচারে বিপরীতে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল নেতারাও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তাদের বিভ্রান্ত করাটাই তো বিজেপির কৌশল। বামেরা অবশ্য সীমিত শক্তি নিয়েও এসআইআর মোকাবিলায় বেশ সক্রিয়।