
রাশিয়া চীনের মধ্যকার সম্পর্ক এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আজ বুধবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের সাথে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করতে যাচ্ছেন।

ট্রাম্পের সঙ্গে যারা সেই সফরে গিয়েছিলেন, তাদের মোবাইল–ল্যাপটপ সঙ্গে নিতে নিষেধ করা হয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের একটি বিশেষ মুহূর্ত এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সফরের আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং নিজেই ট্রাম্পকে নিয়ে যান ব্যক্তিগত বাগান ঝংনানহাইয়ে, যা সাধারণত বিদেশি নেতাদের জন্য খুব কমই উন্মুক্ত করা হয়।

চীন সফরের দুটি দিক লক্ষণীয়। ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হয়ে বাণিজ্য প্রতিনিধির একটি বড় দল চীনে যায়। আশা করা হয়েছিল, বানিজ্য এবং আইটি নিয়ে বড় ধরনের চুক্তি হবে।

ইরানের এই যুদ্ধের ফলে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, যেখান দিয়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, এই সফরটি ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মস্কো-বেইজিং চুক্তি ‘ট্রিটি অব গুড নেইবারলাইন্স এন্ড ফ্রেন্ডলি কো-অপারেশন’-এর ২৫তম বার্ষিকী উদযাপনের সাথে মিলিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে গেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ সফরের তৃতীয় দিনে একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ সেরেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বর্তমানে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিংয়ের মধ্যকার শীর্ষ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ওপর ওয়াশিংটনের নির্ভরতা অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না’— এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন একমত হয়েছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে বিদ্যমান বিরোধ ঠিকঠাকমতো সামলানো না গেলে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। খবর রয়টার্সের।

স্থানীয় সময় আজ বৃহস্পতিবার রাজধানী বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনা চমৎকার হয়েছে। তবে তাইওয়ান প্রশ্নে প্রসঙ্গ ঘুরিয়ে বলেন, ‘চীন খুবই সুন্দর’।

যুদ্ধের ময়দানে ব্যয়বহুল সামরিক সরঞ্জাম এবং অভ্যন্তরীণভাবে ভঙ্গুর অর্থনীতির চাপে থাকা ট্রাম্পের জন্য এই সম্মেলনটি যেমন একটি সুযোগ, তেমনি সি চিনপিংয়ের জন্য এটি ওয়াশিংটনকে তার নিজের শর্তে কাজ করানোর একটি মোক্ষম সময়।

চীনের অর্থনীতি পুনর্গঠন কেবল নীতিমালা নির্ধারণের বিষয় নয়। পরিকল্পনায় যা বলা হয় এবং বাস্তবে যা ঘটে–এই দুইয়ের মধ্যে যে ফাঁক, তা মূলত রাজনৈতিক অর্থনীতির সমস্যা, কেবল নীতির নয়।

রাশিয়ার গণমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যাক্স বলেন, “এই সংকট থামানোর মতো এখন বিশ্বে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক নেতা আছেন–চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।”

প্রেসিডেন্ট সি’র সঙ্গে বৈঠক সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, “আমরা বিস্তারিতসহ একটি বিবৃতি প্রকাশ করব। তবে ০ থেকে ১০-এর স্কেলে যদি ১০ হয় সর্বোচ্চ, তাহলে এই বৈঠক ছিল ১২।”

ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, অন্যান্য দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা কর্মসূচির কারণে, আমি যুদ্ধ বিভাগকে আমাদের পারমাণবিক অস্ত্র সমান ভিত্তিতে পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি। এই প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক শুরু হবে

অ্যাপেকভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের ৩২তম বৈঠকে যোগ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া সফর করছেন ট্রাম্প ও সি। এর ফাঁকে বুসানে তাঁদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হচ্ছে।

চীনে মূলত কঠোর কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা। আমেরিকানরা তা সহ্য করতে পারবেন না, এবং সেটাই স্বাভাবিক। তবে চীন যে শৃঙ্খলাপূর্ণ শহর, দক্ষ উৎপাদনব্যবস্থা ও গতিশীল শিল্পখাত গড়ে তুলেছে তা নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয়।