ভারতের বিহারের স্তন্যপান করানো মায়েদের বুকের দুধে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত এক গবেষণায় এই দাবি করেছেন দেশটির একদল বিজ্ঞানী। এ নিয়ে গত শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সাময়িকী নেচার।
তবে ভারতের আরেকদল বিজ্ঞানী বলছেন, এই ইউরেনিয়াম নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এটি পাওয়া গেছে সহনীয় মাত্রায়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, মহাবীর ক্যান্সার সংস্থান এবং গবেষণা কেন্দ্র, লাভলী প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি এবং দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সের (এইমস) বিজ্ঞানীদের দ্বারা পরিচালিত এই গবেষণায় ৪০ জন মায়ের বুকের দুধের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়। সবকটি নমুনাতেই ইউরেনিয়াম পাওয়া গেছে।
এতে বলা হয়, সর্বোচ্চ ৫ পিপিবি (পার্টস পার বিলিয়ন) পর্যন্ত ইউরেনিয়াম শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও ৭০ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের ঝুঁকির আশঙ্কা দেখা গেছে, তবে সামগ্রিক মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্ধারিত নিরাপদ সীমার নিচে।
গবেষক দলের একজন দিল্লির এইমসের ডা. অশোক শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, ইউরেনিয়ামের মাত্রা অনুমোদিত সীমার নিচে থাকায় মা ও শিশু উভয়ের ওপর এর প্রকৃত স্বাস্থ্যগত প্রভাব ন্যূনতম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এনডিএমএ) সদস্য এবং অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের সাবেক গ্রুপ ডিরেক্টর পরমাণু বিজ্ঞানী ড. দীনেশ কে. আসওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এই বিষয়ে উদ্বেগ দূর করেন।
আসওয়াল বলেন, শনাক্তকৃত মাত্রা নিরাপদ সীমার মধ্যেই রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরেনিয়ামের যে সহনশীল সীমা রয়েছে, তার চেয়ে বিহারের নমুনাগুলোতে পাওয়া মাত্রা প্রায় ছয় গুণ কম।
গবেষণাটি মূলত ভূগর্ভস্থ পানিতে ইউরেনিয়ামের উপস্থিতির সঙ্গে মাতৃদুগ্ধের দূষণের যোগসূত্র স্থাপন করেছে, যা স্থানীয় খাদ্য শৃঙ্খলের মাধ্যমে মায়েদের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা জোর দিয়েছেন যে, ক্লিনিক্যালি নির্দেশিত না হলে বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ করা উচিত নয়। কারণ এটি শিশুদের পুষ্টির সবচেয়ে উপকারী উৎস।