যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা
প্রবাসী শ্রমিক। ছবি: ফেসবুক

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ফিরছেন বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীরা। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রাণের ঝুঁকি আর যুদ্ধের আতঙ্ক থাকলেও, পেটের দায়ে তাদের এই ফেরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।

সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দেখা গেছে দীর্ঘ বিরতির পর ফ্লাইট চলাচল শুরু হওয়ায় সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছেন প্রবাসীরা। পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন কেউ কেউ, আবার কেউবা ছোট সন্তানকে কোলে নিয়ে শেষ মুহূর্তের সময়টুকু কাটাচ্ছেন।

সৌদি আরবগামী ২৮ বছর বয়সী পরিচ্ছন্নতা কর্মী মোহাম্মদ সাকিব জানান, মাত্র কিছুদিন আগে দেশে এসে বিয়ে করেছেন। কিন্তু বিয়ের আনন্দ কাটতে না কাটতেই যুদ্ধের খবর দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে মোহাম্মদ সাকিব বলেন, “ভয় পাওয়াটাই স্বাভাবিক। পেছনে নতুন স্ত্রী আর পরিবারকে রেখে যাচ্ছি, মনে অনেক কষ্ট হচ্ছে। জানি না কপালে কী লেখা আছে, কিন্তু কাজের জন্য তো ফিরতেই হবে।”

বর্তমানে প্রায় ৭০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কর্মরত আছেন। যার অধিকাংশেই মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই কাজ করেন মোট শ্রমশক্তির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নিয়মিত ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন কয়েক হাজার শ্রমিক।

মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করা অনেক বাংলাদেশি সাধারণ দিনের মতোই কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে সবার মনেই শঙ্কা কাজ করছে। সাকিবের ভাই মনিরুল ইসলাম বিমানবন্দরে ভাইকে বিদায় দিতে এসে বলেন, “পরিবারের সচ্ছলতার জন্য ওরা জীবনের ঝুঁকি নিচ্ছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এই প্রবাসীদের নিরাপত্তার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।”

রহমান ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী সৈয়দ আরিফুল ইসলাম জানান, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০০ এর বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছিল। প্রতিটি ফ্লাইটে গড়ে ৩০০ জনের মতো যাত্রী ধারণক্ষমতা ছিল।

সম্পর্কিত