সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভাষণের সময় ওয়াকআউট করল বিরোধী দল জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা। ত্রয়োদশ সংসদ শুরুর দিনই হট্টগোল, ওয়াকআউটের ঘটনা ঘটল।
আজ বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের কথা ঘোষণা করলে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন বক্তব্য সম্বলিত প্ল্যাকার্ড দেখিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতির আগমনী বিউগল বেজে ওঠে।
প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘জুলাইয়ের গাদ্দারি জনগণ সইবে না’, ‘উই রিজেক্ট বিট্রায়াল অব জুলাই’।
রাষ্ট্রপতি স্পিকারের পাশের চেয়ারের সামনে দাঁড়ানোর পর জাতীয় সংগীত শুরু হলেও জামায়াত-এনসিপিসহ বিরোধীদলীয় সদস্যরা বসে থাকেন। এসময় তারা প্ল্যাকার্ড দেখাতে থাকে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসময় বিরোধী দলের সদস্যদের ইশারা করেন যে, জাতীয় সংগীত চলছে। এরপরেও তারা কিছুক্ষণ বসে থাকেন।
পরে উঠে দাঁড়ালেও জাতীয় সংগীত শেষ হওয়ার পর তারা ‘স্বৈরাচারের দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান; ফ্যাসিবাদের দালালরা হুঁশিয়ার, সাবধান’ স্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ সদস্যদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া সংবিধান অনুযায়ী একটি বাধ্যবাধকতা।
স্পিকার বলেন, “আমরা সংবিধানের বিধান ও জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুসরণ করতে চাই। দয়া করে আপনারা খারাপ কোনো দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন না। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনুন।”
রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে দিতে আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যান। তারা আসনের বাইরে এসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ) রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে কিছু কথা বলা শুরু করলে একজন বিরোধী দলীয় সদস্য ডায়াসের নিচে চলে আসেন। এসময় জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহম্মদ তাহের সেখানে উঠে অন্যদের সামলাতে থাকেন। পরে তারা ওয়াকআউট করেন।
হট্টগোলের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তাকে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসতে দেখা যায়।
কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা আছে, কোনো সদস্য সংসদের কাজে বাধাপ্রদান বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না এবং বক্তৃতা চলাকালে টিকা-টিপ্পনী কাটবেন না। তাছাড় রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে কটাক্ষ না করার বিধানও কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ করা আছে।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো সংসদের শুরুর বৈঠক এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেন। পরে সেই ভাষণের ওপর সংসদে আলোচনা হয়। এই ভাষণ সরকার নির্ধারণ করে দেয়।
গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই আওয়ামী লীগের সময়ে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি তোলে বেশ কয়েকটি সংগঠন। এনসিপি রাষ্ট্রিপতিকে অভিশংসনের দাবি জানিয়েছে।