টার্কিশ কোম্পানির নামকরে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
টার্কিশ কোম্পানির নামকরে কিডনি প্রতিস্থাপনে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ৫
প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৪। ছবি: সংগৃহীত

তুরস্কের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে কিডনি প্রতিস্থাপনের নামে রোগীদের বিদেশে পাঠিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-৪।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিপিসি-১ কোম্পানি কমান্ডার কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়তি এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তাররা হলেন নুরুজ্জামান রাজু (৩৬), মাসুম বিল্লাহ (৪৩), মোহাম্মদ তরিকুল (৩০), সালমান ফারসি (৩৫) ও ওয়ালিদ মিয়া (২৬)।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তুরস্কের ‘টার্কিশডক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট হুবহু নকল করে ‘টার্কিশ ডক বিডি’ নামে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে এই চক্রটি নিজেদের বাংলাদেশি প্রতিনিধি দাবি করত। তারা কিডনি প্রতিস্থাপনসহ বিভিন্ন চিকিৎসার কথা বলে রোগীদের তুরস্কে পাঠিয়ে সেখানে জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করত।

র‌্যাব জানায়, কয়েক দিন আগে নিরব নজরুল লিখন নামে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার মায়ের কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য চক্রটির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তারা ২৩ হাজার ডলারের বিনিময়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে প্রতিস্থাপনের আশ্বাস দেয়। দেশে আগাম পাঁচ লাখ টাকা এবং কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণে আরও দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি মাকে নিয়ে তুরস্কে গেলে সেখানে ডায়ালাইসিসসহ বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে নির্ধারিত অর্থের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১৫ হাজার ডলার আদায় করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, জরুরি ডায়ালাইসিসের কথা বলে আরও পাঁচ হাজার ডলার এবং নথিপত্র অনুবাদের জন্য ছয় হাজার ডলার নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বেশি আদায় করা হয়।

অর্থ নেওয়ার পরও তুচ্ছ কারণ দেখিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন করা যাবে না জানিয়ে দেশে ফিরে যেতে বলা হয়। অন্যথায় স্থানীয় পুলিশে সোপর্দ করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। দেশে ফিরে টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

এ ঘটনায় তিনি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৪ চক্রটির মূলহোতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে।

কোম্পানি কমান্ডার কে. এন. রায় নিয়মিত বলেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি তুরস্কের আসল প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করত। পরে কিডনি প্রতিস্থাপন, বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসার প্রলোভন দেখিয়ে রোগীদের বিদেশে পাঠানো হতো। সেখানে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে অনেককে বিপদে ফেলে দেওয়া হতো। কয়েকজন ভুক্তভোগী বিদেশে আইনি জটিলতায় পড়েছেন বলেও তথ্য পেয়েছে র‌্যাব।

র‌্যাব জানিয়েছে, এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রতারণার অভিযোগ তাদের কাছে এসেছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে এবং তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।

সম্পর্কিত